RCTV Logo নীলফামারী প্রতিনিধি
৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ন

১১৫৮ নম্বর পেয়েও থমকে আছে গোবিন্দের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন

এসএসসিতে ১ হাজার ২৫০ নম্বরের মধ্যে পেয়েছে ১ হাজার ১৫৮ নম্বর। অর্জন করেছে জিপিএ-৫। প্রত্যন্ত গ্রামের একটি বিদ্যালয় থেকে এমন অসাধারণ ফলাফল করে গোবিন্দ রায় এখন সবার প্রশংসা কুড়াচ্ছে। কিন্তু ফল প্রকাশের আনন্দের মধ্যেই তার পরিবারে নেমে এসেছে নতুন দুশ্চিন্তা। ভালো কলেজে ভর্তি ও উচ্চশিক্ষার খরচ কীভাবে বহন করবে—এ চিন্তাই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গোবিন্দ রায় নীলফামারী সদর উপজেলার পলাশবাড়ী পরশমণি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি উপজেলার তরনীবাড়ী বন্দরপাড়া গ্রামে। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে সবার ছোট। বাবা চন্দ্র কিশোর রায় একজন ক্ষুদ্র কৃষক। নিজের জমিতে কৃষিকাজের পাশাপাশি অন্যের জমিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালান তিনি। সীমিত আয়ের মধ্যেই ছেলের পড়াশোনার খরচ জুগিয়ে আসছেন।

শুধু অর্থনৈতিক সংকট নয়, নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে গেছে গোবিন্দ। নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকা, শিক্ষকদের নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সে এই সাফল্য অর্জন করেছে। তার ফলাফলে বিদ্যালয়, পরিবার ও পুরো এলাকায় আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই সাফল্যের পরও অনিশ্চয়তা কাটেনি। ভালো কলেজে ভর্তি, বই-খাতা, পোশাক, যাতায়াতসহ উচ্চশিক্ষার অন্যান্য খরচ বহন করা দরিদ্র কৃষক বাবার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। মেধা ও আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও অর্থের অভাবে তার স্বপ্নের পথে বাধা তৈরি হয়েছে।

গোবিন্দের বাবা চন্দ্র কিশোর রায় বলেন, “আমার ছেলে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি খুব মনোযোগী। অভাবের মধ্যেও সে নিজের চেষ্টা চালিয়ে গেছে। ভালো ফল করবে আশা করেছিলাম। কিন্তু এখন কলেজে ভর্তি ও পরবর্তী পড়াশোনার খরচ কীভাবে চালাব, সেটাই বড় চিন্তার বিষয়।

পলাশবাড়ী পরশমণি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হৃষিকেশ রায় বলেন, গোবিন্দ অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়েও সে নিয়মিত পড়াশোনা করেছে। তার এমন ফলাফল বিদ্যালয়ের জন্য গর্বের বিষয়।

নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানিয়ে গোবিন্দ রায় বলে, আমি আরও অনেক দূর পড়াশোনা করতে চাই। ভালো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। ভবিষ্যতে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং মানুষের উপকারে আসতে চাই।

সে আরও বলে, আমাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। তাই উচ্চশিক্ষার খরচ নিয়ে কিছুটা চিন্তা হয়। যারা আমার পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন, তাদের সহযোগিতার মর্যাদা রাখতে আমি আরও ভালোভাবে পড়াশোনা করতে চাই।

পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মতিন্দ্রনাথ রায় বলেন, গোবিন্দ একজন মেধাবী ছেলে। সে ছোট থেকে অনেক কষ্টে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে। তার বাবা একজন কৃষক ও দিনমজুর। তার পাশে সহযোগিতা হাত বাড়ির দেওয়ার জন্য বিত্তবানদের অনুরোধ রইলো।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রংপুরে সাপ খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা, প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব

চাঞ্চল্যকর পোস্টে কি ‘সর্বকালের সেরা’ বিতর্কের ইতি টানলেন মেসি

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রিকশার হ্যান্ডেল থেকে সফল খামারি: ৫ ছাগলে ভাগ্যের চাকা ঘোরালেন নাটোরের ‘বড় শাহিন’

দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজারে সাগরে ট্রলারডুবিতে দুই জেলের মৃত্যু, নিখোঁজ ২

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস আজ

নাটোরে মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে ৪ জন আটক, জব্দ ১৪০ বোতল মাদকসহ গাঁজা-মদ

মহানায়ক উত্তম কুমারের ১০০তম জন্মবার্ষিকী আজ

গাইবান্ধায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত

১০

১১৫৮ নম্বর পেয়েও থমকে আছে গোবিন্দের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন

১১

বার্সা প্রস্তাব দিয়েছিল, আমি ইন্টারেই থাকতে চেয়েছি: লাউতারো

১২

বিএনপির ৩৪ বছরের রাজনীতিতে অনেক উত্থান-পতন দেখেছি: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

১৩

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলায় নিহত ১, আহত ৫

১৪

মেসিকে সর্বোচ্চ সম্মান দেখাবে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন

১৫

সাত অঞ্চলে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

১৬

দেশে স্বর্ণের দামে বড় লাফ

১৭

নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ

১৮

সংসদ ভবনে বৃষ্টির পানি ঝুঁকিতে ২০০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি

১৯

নাটোরে হোমিও চিকিৎসককে কুপিয়ে হত্যা

২০