এসএসসিতে ১ হাজার ২৫০ নম্বরের মধ্যে পেয়েছে ১ হাজার ১৫৮ নম্বর। অর্জন করেছে জিপিএ-৫। প্রত্যন্ত গ্রামের একটি বিদ্যালয় থেকে এমন অসাধারণ ফলাফল করে গোবিন্দ রায় এখন সবার প্রশংসা কুড়াচ্ছে। কিন্তু ফল প্রকাশের আনন্দের মধ্যেই তার পরিবারে নেমে এসেছে নতুন দুশ্চিন্তা। ভালো কলেজে ভর্তি ও উচ্চশিক্ষার খরচ কীভাবে বহন করবে—এ চিন্তাই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গোবিন্দ রায় নীলফামারী সদর উপজেলার পলাশবাড়ী পরশমণি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি উপজেলার তরনীবাড়ী বন্দরপাড়া গ্রামে। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে সবার ছোট। বাবা চন্দ্র কিশোর রায় একজন ক্ষুদ্র কৃষক। নিজের জমিতে কৃষিকাজের পাশাপাশি অন্যের জমিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালান তিনি। সীমিত আয়ের মধ্যেই ছেলের পড়াশোনার খরচ জুগিয়ে আসছেন।
শুধু অর্থনৈতিক সংকট নয়, নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে গেছে গোবিন্দ। নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকা, শিক্ষকদের নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সে এই সাফল্য অর্জন করেছে। তার ফলাফলে বিদ্যালয়, পরিবার ও পুরো এলাকায় আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই সাফল্যের পরও অনিশ্চয়তা কাটেনি। ভালো কলেজে ভর্তি, বই-খাতা, পোশাক, যাতায়াতসহ উচ্চশিক্ষার অন্যান্য খরচ বহন করা দরিদ্র কৃষক বাবার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। মেধা ও আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও অর্থের অভাবে তার স্বপ্নের পথে বাধা তৈরি হয়েছে।
গোবিন্দের বাবা চন্দ্র কিশোর রায় বলেন, “আমার ছেলে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি খুব মনোযোগী। অভাবের মধ্যেও সে নিজের চেষ্টা চালিয়ে গেছে। ভালো ফল করবে আশা করেছিলাম। কিন্তু এখন কলেজে ভর্তি ও পরবর্তী পড়াশোনার খরচ কীভাবে চালাব, সেটাই বড় চিন্তার বিষয়।
পলাশবাড়ী পরশমণি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হৃষিকেশ রায় বলেন, গোবিন্দ অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়েও সে নিয়মিত পড়াশোনা করেছে। তার এমন ফলাফল বিদ্যালয়ের জন্য গর্বের বিষয়।
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানিয়ে গোবিন্দ রায় বলে, আমি আরও অনেক দূর পড়াশোনা করতে চাই। ভালো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। ভবিষ্যতে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং মানুষের উপকারে আসতে চাই।
সে আরও বলে, আমাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। তাই উচ্চশিক্ষার খরচ নিয়ে কিছুটা চিন্তা হয়। যারা আমার পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন, তাদের সহযোগিতার মর্যাদা রাখতে আমি আরও ভালোভাবে পড়াশোনা করতে চাই।
পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মতিন্দ্রনাথ রায় বলেন, গোবিন্দ একজন মেধাবী ছেলে। সে ছোট থেকে অনেক কষ্টে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে। তার বাবা একজন কৃষক ও দিনমজুর। তার পাশে সহযোগিতা হাত বাড়ির দেওয়ার জন্য বিত্তবানদের অনুরোধ রইলো।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.