যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র রপ্তানিতে রেকর্ড! ২০২৪ সালে ৩২ হাজার কোটি ডলারের বিক্রি
যুক্তরাষ্ট্র গত বছর রেকর্ড পরিমাণ যুদ্ধাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি করেছে। ২০২৪ সালে দেশটি প্রায় ৩১ হাজার ৮৭০ কোটি ডলারের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৯ শতাংশ বেশি। এর আগে কোনো বছর এত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র রপ্তানি করেনি দেশটি।
মূল কারণ ও বিশ্লেষণ বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র রপ্তানির বৃদ্ধির প্রধান কারণ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এই যুদ্ধের ফলে ইউরোপসহ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো তাদের অস্ত্রভান্ডার সমৃদ্ধ করতে ব্যাপক হারে যুদ্ধাস্ত্রের অর্ডার দিয়েছে।
শীর্ষ অস্ত্র উৎপাদনকারী কোম্পানি ২০২৪ সালে তিনটি মার্কিন কোম্পানির অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। এই কোম্পানিগুলো হলো:
- লকহিড মার্টিন (Lockheed Martin)
- জেনারেল ডায়নামিক্স (General Dynamics)
- নর্থরোপ গ্রুমান (Northrop Grumman)
বৈশ্বিক পুঁজিবাজারে অস্থিরতা সত্ত্বেও, ব্যাপক বিক্রির ফলে এই তিন কোম্পানির শেয়ারের মূল্য বছরজুড়ে উচ্চতর ছিল।
বিক্রির পরিসংখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) জানিয়েছে, ২০২৪ সালে বিভিন্ন দেশের কাছে রপ্তানি করা অস্ত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হলো:
- তুরস্ক: ২,৩০০ কোটি ডলারের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান।
- ইসরাইল: ১,৮৮০ কোটি ডলারের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান।
- রোমানিয়া: ২৫০ কোটি ডলারের এম১এ২ আব্রামস ট্যাংক।
বিক্রির পদ্ধতি মার্কিন অস্ত্র রপ্তানি সাধারণত দুটি পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়:
- সরাসরি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি – ২০২৪ সালে এর মাধ্যমে ২০ হাজার ৮০ কোটি ডলারের অস্ত্র রপ্তানি হয়েছে (২০২৩ সালে যা ছিল ১৫ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার)।
- সরকারি মধ্যস্থতার মাধ্যমে চুক্তি – ২০২৪ সালে এই পদ্ধতিতে ১১ হাজার ৭৯০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি হয়েছে (২০২৩ সালে ছিল ৮ হাজার ৯০ কোটি ডলার)।
ভবিষ্যতের প্রত্যাশা ২০২৪ সালে বিভিন্ন দেশ থেকে পাওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্রের অর্ডার মেটাতে ২০২৫ সালেও উৎপাদন ও রপ্তানির ধারা অব্যাহত থাকবে। সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে লক্ষ লক্ষ রাউন্ড গুলি, আর্টিলারি গোলা, প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র এবং সাঁজোয়া যান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অস্ত্র কেনার নিয়ম কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে চাইলে দুটি উপায়ে তা করতে পারে:
- কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ।
- মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক আবেদন।
উভয় ক্ষেত্রেই মার্কিন সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন