দিনাজপুর প্রতিনিধি 

দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় এ বছর আমের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা। উৎপাদন বেশি হওয়া এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে কম দামে আম বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে অনেক চাষিই লোকসানের আশঙ্কা করছেন। তাদের দাবি, বিরলে একটি আধুনিক হিমাগার বা কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা হলে আম সংরক্ষণ করে সুবিধাজনক সময়ে বিক্রি করা সম্ভব হবে এবং ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হবে।
উত্তরাঞ্চলের অন্যতম আম উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে পরিচিত দিনাজপুরের বিরলে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি আম উৎপাদন হয়েছে। তবে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় আগেই গাছে আম পেকে যায়। একই সঙ্গে প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে অপরিপক্ব আমে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকায় স্বাভাবিকভাবেই গাছে আম দ্রুত পাকতে শুরু করে।
ফলন বেশি হওয়ায় বাজারে আমের সরবরাহ বেড়ে গেছে। কিন্তু পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদিত আম দ্রুত বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা। এতে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ সৃষ্টি হওয়ায় আমের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। গত বছর যেখানে লাভের মুখ দেখেছিলেন চাষিরা, সেখানে এবার অনেকেই লোকসানের মুখে পড়ার শঙ্কা প্রকাশ করছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা জানান, বিরলে একটি কোল্ড স্টোরেজ থাকলে আম দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যেত। পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণ করা গেলে চাষিরা ন্যায্য মূল্য পেতেন এবং বাজারও স্থিতিশীল থাকত।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার জানান, চলতি মৌসুমে বিরল উপজেলায় প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। উপজেলায় শতাধিক বাণিজ্যিক আমবাগান রয়েছে। এখানে বারি আম-৪, মিশ্রি ভোগ, সূর্যপুরী, আম্রপালি, হাড়িভাঙা ও গুটি জাতের আমের চাষ বেশি হয়। তবে এ বছর চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারমূল্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
চাষি ও ব্যবসায়ীদের মতে, বিরলে একটি আধুনিক আম সংরক্ষণাগার স্থাপন করা হলে উৎপাদিত আম দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে ধাপে ধাপে বাজারজাত করা সম্ভব হবে। এতে একদিকে যেমন দাম স্থিতিশীল থাকবে, অন্যদিকে চাষিরাও ন্যায্য মূল্য পাবেন।
এলাকার আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে দ্রুত বিরলে একটি আধুনিক হিমাগার বা কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশা, সংরক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে আমচাষ আরও সম্প্রসারিত হবে এবং কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।
মন্তব্য করুন