আরসিটিভি ডেস্ক 

টানা বৃষ্টিতে নীলফামারীর বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমিতে পানি জমেছে। কোথাও কোথাও নিচু জমি পানিতে তলিয়ে থাকায় আমন ধানের চারা রোপণে কৃষকদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে উঁচু জমিতে ইতোমধ্যে পুরোদমে আমন চারা রোপণ শেষ করেছেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এ মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত আমন চারা রোপণের উপযুক্ত সময় রয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে নীলফামারীর ছয় উপজেলায় মোট ১ লাখ ১৩ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৬৯২ মেট্রিক টন।
উপজেলাভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে নীলফামারী সদরে ২৭ হাজার ৯৭৯ হেক্টর, সৈয়দপুরে ৮ হাজার ১২০ হেক্টর, ডোমারে ১৭ হাজার ৯২৫ হেক্টর, ডিমলায় ২১ হাজার ২৪১ হেক্টর, জলঢাকায় ২২ হাজার ৯৮৫ হেক্টর এবং কিশোরগঞ্জে ১৪ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমি রয়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, গত ১৯ জুলাই পর্যন্ত জেলার ছয় উপজেলায় মোট ২৬ হাজার ৬৯৫ হেক্টর জমিতে আমনের চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে নীলফামারী সদরে ৯ হাজার ৬০০ হেক্টর, ডোমারে ৩ হাজার ৬৯৪ হেক্টর, ডিমলায় ৭ হাজার ৪৭১ হেক্টর, জলঢাকায় ২ হাজার ৮৭০ হেক্টর, কিশোরগঞ্জে ২ হাজার ৭৩০ হেক্টর এবং সৈয়দপুরে ৩৩০ হেক্টর জমি রয়েছে।
এদিকে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে আউশ ধান আবাদ হয়েছে। কৃষকরা আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে এসব জমির ধান ঘরে তুলতে পারবেন বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
নীলফামারী সদর উপজেলার গোড়গ্রাম হাজিপাড়া গ্রামের কৃষক লিয়াকত আলী বলেন, “উঁচু জমিতে আমনের চারা রোপণ করছি। তবে নিচু জমিগুলোতে এখনো পানি জমে আছে। পানি নেমে গেলে সেসব জমিতেও দ্রুত চারা রোপণ করব।”
কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা মেলাবার গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “বীজতলায় চারা ভালো হয়েছে। জমিতে পানি থাকায় কিছু জমিতে চারা রোপণ করা যাচ্ছে না। কয়েকদিন রোদ হলে জমি প্রস্তুত করে দ্রুত রোপণ শেষ করতে পারব।”
ডিমলা উপজেলার বাইশপুকুর গ্রামের কৃষক রহিম উদ্দিন বলেন, “শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু কোথাও কোথাও জমিতে অতিরিক্ত পানি ও কাদা থাকায় কাজ করা যাচ্ছে না। পানি নেমে গেলে দ্রুত চারা রোপণ করব।”
নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. হোমায়রা মন্ডল বলেন, “মৌসুমের শুরুতে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় কিছু এলাকায় জমিতে পানি জমেছে। তবে আমনের চারা রোপণের জন্য আগস্ট মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময় রয়েছে। পানি নেমে গেলে কৃষকরা দ্রুত চারা রোপণ সম্পন্ন করতে পারবেন।”
তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন। আউশ ধান কাটার পর ওই জমিতেও আমনের চারা রোপণের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আমনের আবাদ ও উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্তব্য করুন