আরসিটিভি ডেস্ক 

দেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের অবৈধ মাদক ব্যবহার করছে, যা মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে মাদকাসক্তদের জন্য চিকিৎসা সেবা উন্নত ও সহজলভ্য করতে কাজ করছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় দিবসটি উপলক্ষ্যে নির্বাচিত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, দেশে বর্তমানে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ মাদক ব্যবহার করছে। বিপুলসংখ্যক তরুণ মাদকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তাদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, সরকারিভাবে পরিচালিত ঢাকার তেজগাঁওয়ে অবস্থিত কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রসহ তিনটি বিভাগীয় শহরে স্থাপিত নিরাময় কেন্দ্রের শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া ঢাকার কেন্দ্রীয় মাদক নিরাময় কেন্দ্রকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসার পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাদকাসক্তদের সমাজের মূলধারায় পুনর্বাসন করা সম্ভব হবে।
তবে দেশে মাদকাসক্তদের সংখ্যার তুলনায় সরকারি চিকিৎসা সুবিধা এখনও পর্যাপ্ত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণে বেসরকারি উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর সেবার মানোন্নয়ন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশব্যাপী লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৪০৩টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের মধ্যে ৭৩টিকে মোট ১ কোটি ১০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসা সেবার মান আরও উন্নত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রগুলোকে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা ও জাতীয় গাইডলাইন অনুসরণ করে পরিচালিত হওয়ার আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী ২৬ জুন ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষ্যে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি পালিত হবে। সকালে মৎস্য ভবন এলাকা থেকে মাদকবিরোধী র্যালি শুরু হয়ে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হবে।
এরপর সেখানে আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, মাদকাসক্তি থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, বার্ষিক মাদক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া শুক্রবার জুমার নামাজের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে অনুষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করা হবে বলে জানান তিনি।
মন্তব্য করুন