পঞ্চগড় প্রতিনিধি 

পঞ্চগড়ে বিদেশি টমেটো আমদানি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে টমেটো চাষি এবং ব্যবসায়িরা। বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার গলেহা বাজাওে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়৷ মানববন্ধনে শতাধিক কৃষক ও ব্যবাসায়ি অংশ নেন । চাষিদের দাবি পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকায় এখনো যে পরিমান টমেটো আছে তা দিয়েই দেশে আরও দুই মাস টমেটোর চাহিদা মেটানো সম্ভব । কিন্তু হঠাৎ কওে ব্যবসায়িদেও একটি সিন্ডিকেট বিদেশ থেকে টমেটো আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে৷ এই খবর ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় এবং লগ্নিকারী টমেটো ব্যবসায়িরা টমেটো কেনা বন্ধ করে দিয়েছে । ফলে টমেটো চাষিরা বিপাকে পড়েছেন৷ তাদের দাবি এলসি করে টমেটো আমদানি বন্ধ না করলে চাষিরা লক্ষ লক্ষ টাকা লোকসানে পড়বে| তারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষন করে টমেটো আমদানি বন্ধের দাবি জানান| মানববন্ধনে স্থানীয় টমেটো চাষি আব্দুর রশিদ, মিজানুর রহমান, আইনুল হক ও টমেটো চাষি সোহেল রানা, ফারুখ হোসেন, রফিক হোসেন বক্তব্য দেন৷ বক্তারা এসময় আরও বলেন মাত্র কয়েক দিন আগে আমরা ১৫শ’ থেকে ১৮’শ টাকায় টমেটো বিক্রী করতাম| এখন ব্যবসাযিরা আগ্রহ দেখাচ্ছেনা । তারা বলছে আমদানী হলে টমেটোর দাম কমে যাবে। এখন খেত থেকে টমেটো কিনে রাখলে ব্যাবসায়িরা লোকসানে পড়বে| আর এ জন্য তারা চাষিদেও কাছ থেকে টমেটো কিনছেনা৷ বিক্রী করতে না পাড়ায় বর্তমানে খেতে টমেটো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চাষিরা আরও বলছেন এক বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করতে বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক মজুরি মিলিয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে প্রতি বিঘায় দেড়শ’ থেকে ২০০ মণ টমেটো উৎপাদনের আশা ছিল কৃষকদের৷ কিন্তু টানা চার দিনের বৃষ্টিতে সেই আশা অনেকটাই ভেস্তে গেছে।
তবে এর মাঝেও কিছুটা স্বস্তি রয়েছে বাজার দাম। কৃষকরা জানান, এ বছর উৎপাদিত টমেটো ৯০০ থেকে ১১০০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারছেন, যা গত বছরের তুলনায় অনেক ভালো। গত বছর উৎপাদন খরচই তুলতে না পেরে অনেক কৃষক ক্ষেতেই টমেটো ফেলে রেখেছিলেন। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারছেন এ বছর| কিন্তু সুফল পেতে না পেতেই আমদানিকারকদের কারণে আবার লোকশানে পড়তে হচ্ছে।
অন্যদিকে ব্যবসায়িরা বলছেন সৈয়দপুর, রংপুর সহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাবসায়িরা এসে পঞ্চগড়ে চাষিদের কাছ থেকে টমেটো কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানী করে৷ এই টমেটো তারা ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, ফেনী, বরিশাল সহ বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়িদেরকে সরবরাহ করে। আমদানি কারকদের একটি সিন্ডিকেট কয়েকদিন আগে হঠাৎ ঘোষণা দেয় বিদেশ থেকে টমেটো আমদানী করা হবে। ব্যবসায়িরা বলছেন টমেটো আমদানী করলে স্থানীয় বাজার পড়ে যাবে। দেশে উৎপাদিত টমেটো অর্ধেকেরও কম দামে বিক্রী করতে হবে। বাজারের অবস্থা দেখার জন্য পঞ্চগড়ের টমেটো তাই কেনা বন্ধ কওে দিয়েছে ব্যবসায়িরা| ব্যবসায়িরা আরও জানান, পঞ্চগড়ের টমেটোর স্বাদ এবং গুণে অনন্য৷ বিভিন্ন জেলায় এর চাহিদা রয়েছে৷ জুলাই মাস পর্যন্ত এই জেলার টমেটো দিয়ে দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব। পঞ্চগড় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুল মতিন জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ৭৭৮ হেক্টর জমিতে টমেটোর আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে সদর উপজেলায়| তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে| অন্যদিকে টমেটো এলসি করলে টমেটো চাষি এবং স্থানীয় ব্যবসায়িরা ক্ষতির সমুক্ষিণ হবে।
মন্তব্য করুন