আরসিটিভি ডেস্ক 

বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার মাদক নির্মূল ও কিশোর গ্যাং দমন করে জননিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান টেবিলে উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রশ্নে সংসদ বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয় অনুগ্রহ করে বলবেন কি, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে বিরোধীদল দমন এবং অবৈধ ক্ষমতাকে প্রলম্বিত করার জন্য সন্ত্রাস ও মাদককে উৎসাহিত করেছিলো আওয়ামীলীগ। যাহার ভয়াবহ প্রভাব মাদক ও কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি বর্তমান সময়ে এক উদ্বেগজনক সামাজিক সমস্যা হিসাবে আছে। এই সমস্যা বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাইয়াছে যে, এ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তার ও পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরী হয়েছে। মাদক নির্মূল ও কিশোর গ্যাং দমনে বর্তমান সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়াছে; এবং নতুন কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা; থাকিলে, তা কী?’
জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার মাদক নির্মূল ও কিশোর গ্যাং দমন করে জননিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বদ্ধপরিকর। মাদক নির্মূল ও কিশোর গ্যাং দমনে বাংলাদেশ পুলিশের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সচেতনতামূলক পদেক্ষেপ জরুরি।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশ মাদক নির্মূল ও কিশোর গ্যাং দমনে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং পদক্ষেপের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করছে।’
তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্যসহ সকল ধরনের অবৈধ মালামাল উদ্ধার ও কিশোর গ্যাং দমন পুলিশের নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনাকরত: আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে। মাদক প্রবেশের রুটগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা চিহ্নিত করে মাদক বিরোধী সফল অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’
মাদকের বিস্তার রোধ ও কিশোর গ্যাং দমনে সড়ক-মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশী ও গ্রেফতার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, অপরাধপ্রবণ এলাকাতে পুলিশের টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কিশোর গ্যাং যাতে সক্রিয় না হতে পারে সেজন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নজরদারি বৃদ্ধি করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজের নেতৃবৃন্দদের সম্পৃক্ত করে মাদক ও কিশোর গ্যাং সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মাদক কারবারীদের শনাক্তকরণ ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের গ্রেফতারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। অপরাধী শনাক্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। বিট পুলিশিং, কমিউনিটি পুলিশিং, ওপেন হাউজ ডে-এর মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করে মাদক নির্মূল ও কিশোর গ্যাং দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন