RCTV Logo স্পোর্টস ডেস্ক
৩০ জুন ২০২৬, ৭:৩৭ অপরাহ্ন

র‍্যাঙ্কিংয়ের দুইয়ে মেসি, ৭৯-এ রোনালদো!

ছবিঃ সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউট পর্ব শুরু হতেই মাঠে জমে উঠেছে তীব্র লড়াই। এখানে প্রতিটি মুহূর্তেই যেন অগ্নিপরীক্ষা—একটিমাত্র ভুল পদক্ষেপে ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে বছরের পর বছর ধরে করা কঠোর পরিশ্রম। কেউ এখানে ট্র্যাজিক হিরো হয়ে বিদায় নেবেন, আবার কেউ নিজের নাম লিখিয়ে যাবেন অমরত্বের পাতায়।

এবারের গ্রুপ পর্বে ফুটবল বিশ্বের বাঘা বাঘা তারকাদের ছাপিয়ে একক আধিপত্য দেখিয়েছেন আর্জেন্টিনার মহানায়ক লিওনেল মেসি। ৩ ম্যাচে ৬ গোল করে তিনি টুর্নামেন্টে যেন বুড়ো হাড়ের ভেলকি দেখাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৯টি গোল করার অনন্য ও ঐতিহাসিক কীর্তি গড়েছেন এই কিংবদন্তি।

বিশ্ব ফুটবলে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজত্ব করা ৩৯ বছর বয়সি এই ফুটবলারের গোলসংখ্যা বর্তমান বিশ্বের সেরা তিন তরুণ তুর্কি—কিলিয়ান এমবাপে (৪ গোল), ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (৪ গোল) এবং আর্লিং হালান্ডের (৪ গোল) চেয়েও বেশি।

মাঠের পারফরম্যান্সের ডাটা বা উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে ফিফা এবার চালু করেছে নতুন খেলোয়াড় মূল্যায়ন পদ্ধতি ‘পাওয়ার র‍্যাঙ্কিং’। তবে অবাক করার বিষয়, গ্রুপ পর্ব শেষে এবং রাউন্ড অব ৩২ শুরুর আগে প্রকাশ পাওয়া এই তালিকায় দেখা যায়, ৬ গোল করলেও আউটফিল্ড খেলোয়াড়দের মধ্যে এক নম্বরে নেই আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। এমনকি কিলিয়ান এমবাপ্পে বা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও শীর্ষস্থানে জায়গা করে নিতে পারেননি।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, এই পাওয়ার র‍্যাঙ্কিং মূলত পুরো টুর্নামেন্টে একজন খেলোয়াড়ের ম্যাচ প্রতি পারফরম্যান্সের সামগ্রিক মূল্যায়ন। এখানে আউটফিল্ড খেলোয়াড়দের তিনটি ক্যাটাগরিতে (আক্রমণ, সৃজনশীলতা এবং রক্ষণভাগ) ০ থেকে ১০-এর স্কেলে স্কোর দেওয়া হয়। (গোলরক্ষকদের ক্ষেত্রে বল পজেশন ও গোল বাঁচানোর দক্ষতার ওপর নম্বর দেওয়া হয়)।

ফিফার সর্বশেষ এই পাওয়ার র‍্যাঙ্কিংয়ে সবাইকে চমকে দিয়ে ১ নম্বর স্থানটি দখল করেছেন জার্মানির দেনিজ উন্দাভ। রাউন্ড অব ৩২-র খেলায় প্যারাগুয়ের বিপক্ষে পেনাল্টি শ্যুটআউটে হেরে জার্মানি বিদায় নিলেও ভিএফবি স্টুটগার্টের এই তারকা উইঙ্গার আক্রমণভাগে ৮.৩৬, সৃজনশীলতায় ৬.৭৮ এবং রক্ষণে ৪.৭ স্কোর পেয়ে শীর্ষে স্থান করে নিয়েছেন।

অপরদিকে, ৮.৩৪ (আক্রমণ), ৬.৪৩ (সৃজনশীলতা) এবং ৫.১৪ (রক্ষণ) স্কোর নিয়ে তালিকার ২ নম্বরে রয়েছেন লিওনেল মেসি।

এছাড়া ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে (৮.১৩, ৭.২৫, ৪.৫৯) এবং ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (৭.৯২, ৬.৩) যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ৫.৭২, ৪.৯৮ ও ৪.৭৪ স্কোর নিয়ে তালিকার ৭৯ নম্বরে অবস্থান করছেন।

জার্মানির মতো শক্তিশালী দলের হয়ে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম বড় চমক হয়ে এসেছিলেন ২৯ বছর বয়সি স্ট্রাইকার দেনিজ উন্দাভ। তবে তার এই সাফল্যের পেছনে জড়িয়ে রয়েছে এক আবেগঘন মানবিক গল্প। ইয়াজিদি ও কুর্দি বংশোদ্ভূত এই ফুটবলার বিশ্বমঞ্চে এমন দুটি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছেন, যাদের নিজস্ব কোনো দেশ বা ফুটবল দল হিসেবে বিশ্বকাপে খেলার বাস্তব কোনো সুযোগ নেই।

গ্রুপ পর্বে জার্মানির হয়ে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে উন্দাভ নিজে ৩টি গোল করেছেন এবং সতীর্থদের দিয়ে আরও ২টি গোল করিয়েছেন। যার ফলে গোল ও অ্যাসিস্টের দিক থেকে তিনি লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো মহাতারকাদের ঠিক পেছনেই অবস্থান করছেন।

নিজে জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করলেও উন্দাভ মূলত এক ইয়াজিদি শরণার্থী দম্পতির সন্তান। তার এই বৈশ্বিক সাফল্য উদযাপিত হচ্ছে যুগের পর যুগ ধরে নিপীড়ন, সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুতির শিকার হওয়া একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে। বিশেষ করে ২০১৪ সালে ইরাকের সিঞ্জার অঞ্চলে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস (ইসলামিক স্টেট) কর্তৃক হাজার হাজার ইয়াজিদি মানুষকে হত্যা ও অপহরণের যে নৃশংসতা চলেছিল, সেই ক্ষত বুকে নিয়েই উন্দাভের এই উত্থানকে দেখছে তার শেকড়ের মানুষেরা।

গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে উন্দাভ জানান, তার এই পারফরম্যান্স যেন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সমস্ত ফুটবল ভক্তদের, বিশেষ করে ইয়াজিদি সম্প্রদায়কে অনুপ্রাণিত করে।

আবেগাপ্লুত হয়ে এই জার্মান ফুটবলার বলেন, ‘বাবা-মায়ের কাছ থেকে সবসময় খবর পাই যে আমাদের সম্প্রদায়ের মানুষ আমাকে কীভাবে দেখছে, কতটা ভালোবাসছে। এটা আমাকে ভীষণ গর্বিত করে। অবশেষে আমাদের নিজেদের বলার মতো কেউ একজন বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়েছে।’

সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খিরবেত আল-গাজাল গ্রামে বৃহস্পতিবার রাতে জার্মানি বনাম ইকুয়েডরের ম্যাচটি দেখতে জড়ো হয়েছিলেন একদল ইয়াজিদি মানুষ। স্থানীয় নেতা ইসমাইল দালাফের বাড়িতে বসে তারা উপভোগ করেন উন্দাভের যাদু। এই গ্রামের অনেকেই উন্দাভের মায়ের আত্মীয়। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের কারণে বা অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে এই অঞ্চলের বহু মানুষ একসময় দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন।

সমাজকর্মী ইসমাইল দালাফ বলেন, ‘বিশ্বকাপে উন্দাভের এই পারফরম্যান্স তাকে আমাদের কাছে একটি প্রতীকে পরিণত করেছে। সে প্রমাণ করেছে যে, শত প্রতিকূলতার মাঝেও ইয়াজিদিরা সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাতে পারে এবং বিশ্বজুড়ে সম্মান আদায় করে নিতে পারে।’

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সংসদে জুয়া প্রতিরোধ আইন পাস, অনলাইন বেটিংয়ে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড

র‍্যাঙ্কিংয়ের দুইয়ে মেসি, ৭৯-এ রোনালদো!

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে ৫৮ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত

বাংলায় আসছে জনপ্রিয় তুর্কি সিরিজ ‘সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবি’

৩ দিনেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ

সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাস, বুধবার থেকে কার্যকর

ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছে চীনা সেনাবাহিনী, দখলে নিয়েছে বিস্তৃত এলাকা

ঠাকুরগাঁওয়ে বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অপরাধে ধর্ষকের যাবজ্জীবন

গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা

তেঁতুলিয়ায় ইউএনওকে মিথ্যা হয়রানি করার প্রতিবাদে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিক্ষোভ সমাবেশ

১০

সৎ বাবা ও ভাইকে হত্যা, গ্রেপ্তার অপর ২ ভাই

১১

ইকরার আত্মহত্যা : রিমান্ড শেষে কারাগারে অভিনেতা জাহের আলভী

১২

ঠাকুরগাঁওয়ে ১১৫ কেজির কষ্টি পাথরের বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

১৩

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

১৪

চার দিনেই ১০০ কোটির ক্লাবে ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’

১৫

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন জার্মানির কিংবদন্তি গোলরক্ষক

১৬

কুড়িগ্রামে কমছে নদীর পানি,তীব্র হচ্ছে ভাঙন,আধা ঘন্টায় নদীর পেটে ২৫ ঘর

১৭

গাইবান্ধায় ছুরিকাঘাতে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামী আটক

১৮

বন্ধুত্ব থেকে দাম্পত্য, এবার একসঙ্গে বিসিএস ক্যাডার—নাটোরের বাদল ও জেরিনের অনন্য সাফল্যের গল্প

১৯

ডাচদের হৃদয় ভেঙে শেষ ষোলোয় মরক্কো

২০