কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি 

কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও কালজানি নদীর প্রায় ১১ কিঃ মিঃ জুড়ে নদী ভাঙনে হাজারের অধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৩৬টি পয়েন্টে ১১ দশমিক ২৪৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন চলছে।ভাঙনে বসতভিটা,আবাদি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে নিঃস্ব হচ্ছে অনেকেই।মাথা গোজার মত ঠাঁই হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষজন।
মঙ্গলবার ৩০ জুন সকাল ৯ টার তথ্য মতে দুধকুমার নদের পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ২৯ দশমিক ৮১ মিটার, যা বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপরে। ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে অবস্থান করছে।
দুধকুমার নদের ভাঙনে সদর উপজেলার খাড়ুয়ারপাড় ও বানিয়াপাড়া এবং নাগেশ্বরী উপজেলার বেপারীরচর, সাপখাওয়া, কুটিরচর, বলরামপুর ও দামালগ্রাম এলাকায় বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।
ধরলা নদের ভাঙনে সদর উপজেলার সাটকালুয়া ও জগমনেরচর এবং ফুলবাড়ী উপজেলার গোরকমণ্ডপ ও পশ্চিম ধনিরাম এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন দেখা দিয়েছে সদর উপজেলার গোয়াইলপুরী ও পার্বতীপুর, নাগেশ্বরীর ঝাউকুটি, পাগলারবাজার ও বালারহাট, উলিপুরের দইখাওয়ারচর, রসুলপুর ও জলঙ্গারকুটি, চিলমারীর কাচকোল, রৌমারীর সোনাপুর, খেদাইমারী ও সুখেরবাতি এবং রাজিবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।বিশেষ করে চিলমারীতে ৩০ মিনিটি ২৫টি বসত ঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
এছাড়া তিস্তা নদের ভাঙনে রাজারহাট উপজেলার হাঁসারপাড়, রামহরি ও চর বিদ্যানন্দ এবং উলিপুর উপজেলার হোকডাঙ্গা ও গোড়াইপিয়ার এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কালজানি নদের ভাঙন অব্যাহত রয়েছে ভূরুঙ্গামারীর উত্তর ধলডাঙ্গা, বউবাজার ও পাইকডাঙ্গা এলাকায়।
কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ভাঙন প্রতিরোধে ৩ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় এক লাখ জিওব্যাগ ফেলে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার এলাকায় জরুরি কাজ চলছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজির রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২৭৫ মেট্রিক টন চাল, ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন