স্পোর্টস ডেস্ক 

খ্যাতনামা ফুটবল এজেন্ট পিনি জহাভি উন্মোচন করেছেন রবার্ট লেভানডফস্কিকে দেওয়া এক অবিশ্বাস্য আর্থিক প্রস্তাবের গল্প। পোলিশ ফুটবল আইকন—যিনি সম্প্রতি মেজর লিগ সকারে শিকাগো ফায়ারে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। অথচ তিনি বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ক্রীড়াবিদ হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।
পোলিশ সংবাদমাধ্যম স্পোর্টসেফ্রাক্টিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জহাভি বলেন, রবার্টের টেবিলে মৌসুম প্রতি ১০০ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের ২ বছরের একটি চুক্তির প্রস্তাব ছিল।
লেভানডফস্কি কেন সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে জহাভির উত্তর, কারণ তিনি বার্সেলোনার হয়ে খেলতে চেয়েছিলেন।
মজার বিষয় হলো, জহাভি স্বীকার করেছেন যে কাতালুনিয়া ছাড়তে হলে মধ্যপ্রাচ্যই ছিল এই স্ট্রাইকারের প্রথম পছন্দ। এর পেছনে মূল কারণ ছিল ভৌগোলিক ও যোগাযোগের সুবিধা। যা তাকে নিজের জন্মভূমির কাছাকাছি রাখত।
তিনি আরও বলেন, এটা সত্য যে রবার্ট সৌদি খেলতে চেয়েছিলেন। মূলত সেখানে বসবাসের সুবিধার কারণে। রিয়াদ ও ওয়ারশর মধ্যে সময়ের পার্থক্য খুবই কম এবং যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় পোল্যান্ডের দূরত্বও অনেক কম। তাছাড়া আমরা জানতাম যে সেখানে আমাদের জন্য প্রচুর অর্থ অপেক্ষা করছিল।
মৌসুমের মাঝপথে বার্সেলোনা ছেড়ে যাওয়ার কোনো ইচ্ছাই ছিল না লেভানডফস্কির। পরবর্তীতে সাবেক এই বায়ার্ন মিউনিখ তারকাকে জহাভি সতর্ক করে জানান, গ্রীষ্মে হয়তো এই প্রস্তাব আর নাও থাকতে পারে।
তিনি বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের অর্থ খরচের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে। তাছাড়া যুদ্ধজনিত পরিস্থিতিও বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছিল। তাই আমি রবার্টের কাছে স্পষ্ট করে বলেছিলাম, আমাকে তোমার সাথে সৎ হতে হবে। আমি সেখানকার সবাইকে চিনি, বাজার সম্পর্কে জানি এবং পরিস্থিতি বেশ কঠিন হতে চলেছে।
লেভানডফস্কি কেন শেষ পর্যন্ত বার্সা ছাড়লেন, তা ব্যাখ্যা করে জহাভি বলেন, জোয়ান লাপোর্তা চেয়েছিলেন রবার্ট যেন দল না ছাড়েন। কিন্তু লাপোর্তা কোচদের কাজে হস্তক্ষেপ করেন না। ডেকো এবং হান্সি ফ্লিকই দলের স্কোয়াড নির্ধারণ করেন। আর তারা রবার্টকে শুরুর একাদশে নিয়মিত সুযোগের নিশ্চয়তা দিতে পারছিলেন না, যা তার কাছে অর্থের চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আপনারা তাকে চেনেন, তিনি সবসময় খেলতে চান, দলের মূল শক্তি হয়ে থাকতে চান, তাই একপর্যায়ে আমরা অন্যান্য বিকল্পগুলো নিয়ে চিন্তা করতে শুরু করি।
শুরুর একাদশে নিয়মিত স্থান না পাওয়ার বিষয়টিই লেভানডফস্কির দল ছাড়ার সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করে। যিনি এখনও বিশ্বাস করেন যে শীর্ষ ফুটবলে অবদান রাখার মতো অনেক কিছু তার বাকি আছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র পাড়ি জমানোর পরই এক অপ্রত্যাশিত বাধার মুখে পড়েছে তার যাত্রা। প্রতিকূল পরিবেশগত পরিস্থিতির কারণে তার এমএলএস অভিষেক এবং বায়ার্ন মিউনিখের সাবেক সতীর্থ থমাস মুলারের সাথে মাঠে পুনরায় একত্রিত হওয়ার মুহূর্তটি পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।
মন্তব্য করুন