নীলফামারী প্রতিনিধি 

এক সময় বিভিন্ন পশু-পাখির ও ক্ষতিকর নজরের হাত থেকে জমির ফসল রক্ষায় কাকতাড়ুয়ার প্রচলন ছিল ব্যাপক। কৃষকরা তাদের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি করতেন কাকতাড়ুয়া। আর এসব কাকতাড়ুয়াকে দাঁড় করিয়ে রাখা হতো বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে। দূর থেকে দেখলে মনে হতো হাত মেলে কোনো ভদ্র লোক দাঁড়িয়ে আছে। তবে পশু পাখির কাছে এটি ছিল অত্যন্ত আতঙ্কের।
জানা যায়, ৩১শ খ্রিস্টপূর্বাব্দে দিকে মিশর সভ্যতায় সর্বপ্রথম কাকতাড়ুয়ার ব্যবহার শুরু হয়। এরপর সভ্যতার আধুনিকায়নে কাকতাড়ুয়ার ব্যবহার অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়ে। তবে আধুনিকতার এ যুগে এসেও এর চোখে পড়ে কাকতাড়ুয়া।
নীলফামারী সদর উপজেলার মাস্টারপাড়া সবজি ক্ষেতে কৃষি জমিতে ফসল রক্ষায় কাকতাড়ুয়া ব্যবহার করছেন স্থানীয় কৃষক সুবাশ চন্দ্র রায়। তার ফসলি জমি ঘুরে দেখা যায়, ২০ শতক জমিতে চাষ করেছেন সবজি, টমেটো, বেগুন, লাউ, মরিচসহ। পশুপাখির তাণ্ডব থেকে এসব সবজি রক্ষায় তিনি জমির মাঝখানে দাঁড় করিয়ে রেখেছেন এক কাকতাড়ুয়া। এতে তার ফসলি জমি পশুপাখির আক্রমণ থেকে অনেকটাই রক্ষা পাচ্ছেন বলে জানান কৃষক সুবাশ চন্দ্র রায়।
কাকতাড়ুয়ার ব্যবহার নিয়ে তিস্তার চর এলাকার নফিল উদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, “আগে জমিত কাকতাড়ুয়া ব্যাবহার করতাম। এখন আর করি না, সেসময় আমাদের বিশ্বাস ছিল জমিতে কাকতাড়ুয়া ব্যবহার করলে ফসলে রোগ হয় না, ফলনও ভালো হয়।”
লক্ষীচাপ নিমতলী গ্রামের কৃষক মোজাম্মেলসহ অনেকেই জানান, কাকতাড়ুয়া পশু-পাখিকে ভয় দেখানোর জন্যে জমিতে দাঁড় করা মানুষের প্রতিকৃতি বিশেষ। যা ক্ষতিকর পাখির আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষার উদ্দেশে জমিতে এটা রাখা হয়। এটি এক প্রকার ফাঁদ, যা ভয় দেখানোর উদ্দেশে তৈরি করা হয়।
পলাশবাড়ী ইউনিয়ন-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রফুল্ল চন্দ্র রায় বলেন, ফসল রক্ষায় কাকতাড়ুয়া ব্যবহার পদ্ধতিটি প্রাচীনকালে ব্যাপক প্রচলন ছিল। বর্তমানে আধুনিকায়নের ফলে এখন এর ব্যবহার অনেকটাই কমে গেছ। তবে কৃষি জমি রক্ষায় কাকতাড়ুয়া ভালো পদ্ধতি। এতে একদিকে যেমন পশুপাখির কোনো ক্ষতি হয় না, অন্যদিকে ফসলি জমিও অনেকটাই সুরক্ষিত থাকে।
নীলফামারী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিক হাসান বলেন, ফসল রক্ষায় কাক তাড়ুয়ার কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। অনেকের ধারণা তাদের ক্ষেতে কাক তাড়ুয়া দাঁড়ানো থাকলে ফসলের কোনো ক্ষতি হবে না, এমন বিশ্বাস থেকেই কৃষকেরা কাক তাড়ুয়া জমিতে স্থাপন করে থাকতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তারা।
মন্তব্য করুন