ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি 

জীবনের ভারে নুয়ে পড়া এক সংগ্রামী নাম কামিনি দাস। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ বাজার সংলগ্ন মাছওয়ার পাড়া গ্রামের এই অসহায় নারী গত ৩৫ বছর ধরে লড়াই করে চলেছেন দারিদ্র্যের সঙ্গে। নেই স্বামী, নেই পাশে দাঁড়ানোর মতো কোনো স্বজন—তবুও থেমে যাননি তিনি।
নিজের হাতে বাঁশ দিয়ে তৈরি ঢাকী (ঝুড়ি) বানিয়েই চলছে তার বেঁচে থাকার সংগ্রাম। প্রতিদিন ভোর হতেই কাজে নেমে পড়েন কামিনি দাস। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিশ্রম করে বানানো ঢাকী মাথায় নিয়ে ছুটে যান এক বাজার থেকে আরেক বাজারে। দিন শেষে যা আয় হয়, তা দিয়েই জোটে তার দুবেলা খাবার—আর যদি বিক্রি না হয়, সেদিন তার কপালে জোটে না এক মুঠো ভাতও।
কামিনি দাসের কণ্ঠে শোনা যায় বেদনার সুর—
“এই ঢাকী বানিয়েই আমার জীবন চলে। কিন্তু সবসময় বিক্রি হয় না। অনেক দিন না খেয়েই থাকতে হয়…”
স্থানীয়েরা আরসি টিভিতে জানিয়েছেন দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রমেও ভাগ্যের চাকা ঘোরেনি তার।অভাব-অনটনের এই জীবন যেন তার নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ তার হাতের কাজের রয়েছে যথেষ্ট চাহিদা—প্রয়োজন শুধু একটু সহায়তা, একটু সুযোগ।
অভাব, ক্ষুধা আর একাকীত্ব—সবকিছুকে সঙ্গী করেই প্রতিনিয়ত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন কামিনি দাস। জীবনের কঠিন বাস্তবতা তাকে থামাতে পারেনি, বরং আরও শক্ত করেছে তার মনোবল।
কামিনি দাসের মতো অসংখ্য সংগ্রামী নারী আজও সমাজের আড়ালে নীরবে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন। তাদের মুখে হাসি ফোটাতে প্রয়োজন মানবিক দৃষ্টি, প্রয়োজন সহায়তার হাত। এখনই সময়—এই অবহেলিত মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর।
মন্তব্য করুন