কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি 

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটডোরে সকাল থেকেই শিশু রোগীদের ভিড়। কেউ জ্বর, কেউ সর্দি-কাশি, আবার কারও শরীরে দাগ বা ফোসকার মতো উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছে। উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের চোখেমুখে দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। চিকিৎসকের কক্ষের সামনে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে আছেন অনেকেই।
১৫ মাস বয়সী শিশু প্রিতিকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন তার দাদু আব্দুর রহমান। ফুটফুটে শিশুটি চুপচাপ তাকিয়ে আছে চারপাশে। তার শরীরে দেখা দিয়েছে দাগ দাগ চিহ্ন। দাদু আব্দুর রহমান বলেন, “নাতনির গায়ে ফোসকার মতো হয়েছে। মাঝে মাঝে জ্বরও আসে। অনেকদিন ধরে ভুগছে। তাই হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। চিকিৎসাপত্র নিয়েছি, এখন আল্লাহর ভরসা।”
হাসপাতালের শিশু কর্নারে গিয়ে দেখা যায়, নার্সরা শিশুদের ওজন মাপছেন আর চিকিৎসকরা মনোযোগ দিয়ে রোগীদের দেখছেন। কেউ কাশি দিচ্ছে, কেউ হাঁচি দিচ্ছে, আবার অনেক শিশুর শরীরে জ্বর ও ফুসকুড়ির উপসর্গ রয়েছে। চিকিৎসা নিতে আসা অভিভাবকদের মধ্যে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত সাত দিনে প্রায় ৩ শতাধিক শিশুকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন শিশু রোগী চিকিৎসা নিতে আসছে।
ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু বিশেষজ্ঞ মেডিকেল অফিসার ডা. রতন আহমেদ বলেন, “শিশুদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এখানে আইএমসিআই কর্নার চালু রয়েছে। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক শিশু রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
আরেক শিশু বিশেষজ্ঞ মেডিকেল অফিসার ডা. হাফিজুর রহমান জানান, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শিশুদের মধ্যে সর্দি-কাশি, জ্বর ও ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তিনি বলেন, “চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনোভাবেই শিশুদের অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো যাবে না। আমরা সবসময় চিকিৎসাসেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছি।”
মন্তব্য করুন