স্পোর্টস ডেস্ক 

বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই ইতিহাসের মঞ্চ। তবে ২০২৬ সালের আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল শুধু দুই দলের লড়াই নয়, এটি দুই প্রজন্মেরও মুখোমুখি হওয়া। একদিকে ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি, যার এটি ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। অন্যদিকে সদ্য ১৯ বছরে পা রাখা লামিনে ইয়ামাল। যিনি খেলছেন নিজের প্রথম বিশ্বকাপ। দুই তারকার মধ্যে বয়সের ব্যবধান ২০ বছর, আর সেই ব্যবধানের সবচেয়ে প্রতীকী স্মৃতি হয়ে আছে ২০০৭ সালের একটি ছবি। যেখানে শিশু ইয়ামালকে কোলে নিয়ে গোসল করাচ্ছেন তরুণ মেসি।
২০০৭ সালে বার্সেলোনা ও স্প্যানিশ সংবাদপত্র স্পোর্ট-এর উদ্যোগে ইউনিসেফের জন্য তহবিল সংগ্রহের একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের ফটোশুটে অংশ নিয়েছিলেন মেসি। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর এবং তিনি ইতোমধ্যেই একটি বিশ্বকাপ খেলেছেন। আর পাঁচ মাস বয়সী শিশু ছিলেন লামিন ইয়ামাল, যাকে কোলে নিয়ে গোসল করানোর সেই ছবিই পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
১৮ বছর পর সেই ছবির দুই চরিত্র এবার বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে প্রতিপক্ষ হিসেবে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বার্সেলোনার কিংবদন্তি ১০ নম্বর জার্সি নিজের করে নেন ইয়ামাল। এই জার্সিটিই মেসি বার্সেলোনায় ১৭ মৌসুমের মধ্যে ১৩ মৌসুম পরেছিলেন এবং ক্লাবটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৬৭২ গোল করে কিংবদন্তির মর্যাদা অর্জন করেন।
বর্তমান বিশ্বকাপে অবশ্য ইয়ামাল স্পেনের হয়ে খেলছেন ১৯ নম্বর জার্সি পরে। মজার বিষয় হলো, ২০০৬ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত নিজের প্রথম বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়েও ১৯ নম্বর জার্সি পরেছিলেন মেসি। তখন ইয়ামালের জন্মই হয়নি।
চলতি বিশ্বকাপেও দুজনই গড়েছেন অনন্য রেকর্ড। ইয়ামাল গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতাদের শীর্ষ দশে নিজের নাম তুলেছেন, যেখানে তিনি মেসির চেয়েও কম বয়সে এই কীর্তি গড়েছেন।
অন্যদিকে মেসি নিজের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেছেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে দুটি অ্যাসিস্ট করার পর বিশ্বকাপে তার প্রভাব আরও বাড়লেও, গোলের হিসেবে তিনি ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে গেছেন ২১ গোল নিয়ে।
আগামী রোববারের ফাইনালে তাই শুধু আর্জেন্টিনা ও স্পেনের শিরোপা লড়াই নয়, এটি হবে এক অবিস্মরণীয় প্রতীকী মুহূর্তও। যেখানে একসময় শিশুকে কোলে নেওয়া কিংবদন্তি মেসি মুখোমুখি হবেন সেই শিশুই আজকের ফুটবল বিশ্বের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র লামিন ইয়ামালের।
মন্তব্য করুন