নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় এক রাতের ব্যবধানে কৃষকদের ১২টি সেচ পাম্প চুরির ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আমন মৌসুমের শুরুতেই এমন ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা নতুন করে সেচ ব্যবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। কয়েক লাখ টাকার কৃষি যন্ত্রপাতি হারিয়ে অনেক কৃষক এখন কীভাবে জমিতে সেচ দেবেন, সেই চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) গভীর রাতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষিজমিতে স্থাপিত সেচ পাম্পগুলো দুর্বৃত্তরা চুরি করে নিয়ে যায়। শুক্রবার জমিতে গিয়ে সেচ দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে কৃষকরা পাম্পগুলো না পেয়ে হতবাক হয়ে পড়েন। পরে একে একে বিভিন্ন এলাকা থেকে একই ধরনের চুরির খবর ছড়িয়ে পড়লে কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শাহিন আলম ও বদর উদ্দিন বলেন, প্রতিটি সেচ পাম্পের বাজারমূল্য প্রায় ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা। সে হিসেবে এক রাতেই কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অনেকেই ঋণ নিয়ে কিংবা দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ভেঙে এসব পাম্প কিনেছিলেন। এখন নতুন করে পাম্প কেনা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, আমন মৌসুমে সময়মতো সেচ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পাম্প চুরি হয়ে যাওয়ায় জমিতে সেচ দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে সময়মতো চাষাবাদ ব্যাহত হলে উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তারা দ্রুত চুরি হওয়া পাম্প উদ্ধার এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় কৃষি যন্ত্রপাতি, মোটর, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ নানা ধরনের চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে। রাতের বেলায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকায় সংঘবদ্ধ চোরচক্র এসব অপরাধ সংঘটিত করছে বলে তাদের ধারণা। কৃষকদের দাবি, গ্রামীণ এলাকায় পুলিশের রাতের টহল বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নজরদারি জোরদার করা হলে এ ধরনের অপরাধ অনেকটাই কমে আসবে।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। বিভিন্ন আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ইফতেখার আলম বলেন, “গুরুদাসপুরে কৃষকদের সেচ পাম্প চুরির ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে চুরি হওয়া সেচ পাম্প উদ্ধার এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
এদিকে কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত চুরি হওয়া পাম্প উদ্ধার না হলে চলমান আমন মৌসুমে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব কৃষি উৎপাদনের ওপর পড়তে পারে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
মন্তব্য করুন