আরসিটিভি ডেস্ক 

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে সি গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। এই ম্যাচেও ফর্মের তুঙ্গে ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। জোড়া গোল করেছেন তিনি। কিন্তু হ্যাটট্রিক হতো তার, যদি বিতর্কিত ভিএআর সিদ্ধান্তে ২২ মিনিটের গোল বাতিল না হতো! ব্রাজিলের ৩-০ গোলের জয় ছাপিয়ে মেক্সিকান রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে ভক্ত, বিশ্লেষক ও সাবেক খেলোয়াড়রা বিভক্ত।
গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচেই গোল করেছিলেন রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড। আরেকটি ম্যাচেও নিজেকে প্রমাণ করলেন দুটি গোল করে। তবে তার জোড়া গোল ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে যে গোলটি বাতিল হয়েছে, সেটি নিয়ে।
২২তম মিনিটে স্কটল্যান্ড ডিফেন্ডার জ্যাক হেনড্রি নিজের অর্ধে বল পায়ে নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন। ভিনিসিয়ুস বল দখলে নিয়ে বক্সে ঢুকে ঠাণ্ডা মাথায় দারুণ ফিনিশিংয়ে জাল কাঁপান। ব্রাজিলিয়ানদের গোল উদযাপন কিছুক্ষণের মধ্যে হতাশায় মিলিয়ে গেছে। মেক্সিকান রেফারি সিজার রামোসকে পিচ সাইড মনিটরে ভিএআর রিভিউ নিতে বলা হয়। রিপ্লে দেখে তিনি গোলটি বাতিল করেন। তার মতে বলটি কেড়ে নেওয়ার সময় হেনড্রিকে ফাউল করেছিলেন ভিনিসিয়ুস। গোল বাতিলের সঙ্গে সঙ্গে ডাগআউটে খেলোয়াড় ও কোচরা ক্ষোভ জানান।
রিপ্লেতে দেখা গেছে, হেনড্রি বল বিপদমুক্ত করার মুহূর্তে তার সামনে বাঁ পা বাড়িয়ে দিয়েছেন ভিনিসিয়ুস। কারও কারও মতে, ব্রাজিলিয়ান তারকা ন্যায্যভাবে বল দখলে নেন, আবার কেউ মনে করেন, কিক নেওয়ার সময় হেনড্রি বাধা পেয়েছেন।
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে। সাবেক প্রিমিয়ার লিগ অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি ও বর্তমান বিবিসি রুলস অ্যানালিস্ট ডারেন কান মনে করেন, স্কটল্যান্ড এই সিদ্ধান্তের সুবিধা পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না এটা ভিনির ফাউল ছিল। তার পা মাটিতেই ছিল, ডিফেন্ডার তাকে লাথি মেরেছে। স্কটল্যান্ড এই সিদ্ধান্তে সুবিধা পেয়েছে।’
সাবেক ব্রাজিল মিডফিল্ডার লুকাসত লেইভাও একই মত দিয়েছেন। ভিনির বল দখলের প্রশংসা করে তার দাবি, গোলটি দেওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, ‘আমার মতে এটা ফাউল নয়, দারুণ প্রেস, স্কোর ২-০ হতে পারত। অবশ্যই, দেখা যাক রেফারি বিশেষজ্ঞরা কী বলেন, কিন্তু আমার মতে, এটা ফাউল নয়।’ স্কটল্যান্ডের নারী দলের সাবেক আন্তর্জাতিক ডিফেন্ডার র্যাচেল করসির যুক্ত, ‘আমার মনে হয় যুক্তিটা হলো, ভিনি বল স্পর্শ করার আগেই স্পর্শটি হয়েছে, বল তার নিয়ন্ত্রণে ছিল না, সে প্রথমে স্কটল্যান্ডের খেলোয়াড়কে স্পর্শ করে। এটা অবিশ্বাস্যভাবে সৌভাগ্যজনক।’
সাবেক স্কটল্যান্ড ফরোয়ার্ড জেমস ম্যাকফ্যাডেন দ্বিমত পোষণ করেছেন, ‘আপনি যদি ভিডিওটি আবার দেখেন, পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে বল কিক করার মুহূর্তে সে বাধার মুখে পড়ে। তার কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। আমার মতে এটি একটি ফাউল এবং সিদ্ধান্তটি সঠিক।’
ওই গোল বাতিল হলেও থেমে যাননি ভিনিসিয়ুস। তার সাত মিনিটের গোলে আগেই ব্রাজিল লিড নিয়েছিল প্রতিপক্ষের স্কট ম্যাককেনার ভুলে। আর হাফটাইমের আগে ভিনিসিয়ুস ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। মাঝের গোলটি হলে সেটি হ্যাটট্রিক হতো তার।
বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলের ম্যাচে এই মেক্সিকান রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দেওয়ার ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ের সেই ম্যাচেও রামোস দায়িত্বে ছিলেন।
ওই ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের সমতাসূচক গোলটির আগে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডারকে ধাক্কা দেওয়া এবং ম্যাচের শেষ দিকে পেনাল্টি বক্সে গাব্রিয়েল জেসুসকে ফাউল করার পরও পেনাল্টি না দেওয়ায় দুটি বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ম্যাচের পর ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন ফিফার রেফারি কমিটির কাছে অভিযোগ জানায়। রেফারি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি প্রযুক্তি ব্যবহার না করায় তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল।
মন্তব্য করুন