আরসিটিভি ডেস্ক

রংপুরের মিঠাপুকুর থানায় দায়ের করা একটি ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মো. মুশফিকুর রহমান মোমিন (৩২)-কে নোয়াখালী থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। বৃ
হস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার খলিলুর রহমান ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ দমনে তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার ঘটনায় র্যাব পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী বাদীর মেয়ে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা মিঠাপুকুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরবর্তীতে মেয়ের সন্ধানে অভিযুক্তদের বাড়িতে গেলে বাদীকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুরের বাসন থানা এলাকা থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। সে সময় মামলার অন্য দুই আসামি মোর্শেদা বেগম ও হাসেন আলীর বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করা হলেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রধান আসামি মুশফিকুর রহমান মোমিন পালিয়ে যায়।
উদ্ধারের পর ভুক্তভোগী তার পরিবারের সদস্যদের জানান, প্রধান আসামি তাকে একাধিকবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে গত ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রংপুরের মিঠাপুকুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নং-১৩ হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
ঘটনার পর থেকেই র্যাবসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আসামিকে গ্রেফতারে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিপিএসসি, র্যাব-১৩ রংপুর এবং সিপিসি-৩, র্যাব-১১ নোয়াখালী ক্যাম্পের একটি যৌথ আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব জানিয়েছে, অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন