RCTV Logo আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৬ জুন ২০২৬, ১০:১২ পূর্বাহ্ন

ইরানি ড্রোন ও রাডার স্টেশনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলা

ছবিঃ সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালির দিকে ধেয়ে আসা ইরানের চারটি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ ভূপাতিত করার দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের দাবি, ড্রোনগুলো ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক জাহাজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ড্রোন ভূপাতিত করার পর পরবর্তী সম্ভাব্য হামলা রুখতে তারা পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইরানের গোরুক এবং কেশম দ্বীপে অবস্থিত উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্টেশনগুলোতে যৌথ হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।

তবে এই হামলার ঘটনার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কয়েক দিন আগে হওয়া বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নতুন করে এই উত্তেজনা দেখা দিল। এতে দুই দেশের মধ্যে থাকা একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং ৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

তবে বিমান বন্দরে এই হামলার দায় অস্বীকার করেছে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার (ইন্টারসেপ্টর) ভুলের কারণেই এই ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।

সেন্টকম অবশ্য ইরানের এই দাবিকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরান পরিকল্পিত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অন্যায়ভাবে  কুয়েতের ওই বিমানবন্দরে এই হামলা চালিয়েছে।

এর আগে আইআরজিসি জানিয়েছিল, একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার এবং কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রতিশোধ নিতেই তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আলোচনা যখন পুরোপুরি স্থবির এবং যুদ্ধ অবসানের চুক্তিটি যখন আলোর মুখ দেখছিল না, ঠিক তখন আবার এই হামলার ঘটনা ঘটল।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ব্যাপক বিমান হামলা চালালে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়।

জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালায়। একই সঙ্গে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়, যে পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়। ইরানের এই পদক্ষেপের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যায়।

গত এপ্রিলের শুরুর দিকে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পরপরই ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, উভয় পক্ষ একটি চুক্তিতে পৌঁছানো, তা প্রত্যয়িত করা এবং চূড়ান্ত স্বাক্ষরের আগপর্যন্ত এই বন্দর অবরোধ কর্মসূচি পুরোপুরি বহাল থাকবে।

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জমি লিখে না দেওয়ায় স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যা, স্বামী গ্রেফতার

নীলফামারীতে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি গ্রেপ্তার

এরদোয়ানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর

‎যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে দিনাজপুরে আনন্দ মিছিল

৬১৭৫ গ্রাম সোনায় মোড়ানো বিশ্বকাপ ট্রফি, দাম শুনলে চমকে যাবেন

ঠাকুরগাঁওয়ে বিভিন্ন দাবিতে গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন

শিশু নির্যাতন রোধে জাতীয় নিরাপত্তা টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

কিম জং উন ১০ হাজার টনের যুদ্ধজাহাজ তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন

হাম উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১০৩২

পঞ্চগড়ে পুইশন হওয়া শিশুসহ ১০ নারী-পুরুষ চরম বেকায়দায়,গ্রহন করছে না কোন দেশই 

১০

আখানগরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চার বসতঘর পুড়ে ছাই, গবাদিপশুর ব্যাপক ক্ষতি

১১

দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারীদের স্থায়ীকরণের দাবিতে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত

১২

গাইবান্ধায় ‎নারীকে বিলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, আটক ৩

১৩

দেশবিরোধী মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে রংপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ

১৪

১১ জনকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেয়নি বিজিবি

১৫

নাটোর ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত, সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান

১৬

হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের

১৭

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

১৮

আ.লীগের চুরি ও পাচারের কারণেই বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে চাপ : তথ্যমন্ত্রী

১৯

দেশের ১৪ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে ২ নম্বর সংকেত

২০