নাটোর প্রতিনিধি 

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে বিএনপির ঘোষিত ৩৬টি আসনের মধ্যে স্থান করে নিয়েছেন নাটোরের দুই নারী নেত্রী—ওঁরাও সম্প্রদায়ের আন্না মিনজ এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেত্রী সানজিদা ইয়াসমিন ওরফে তুলি। এ মনোনয়নের মধ্য দিয়ে নাটোর জেলায় নারী নেতৃত্বের নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নাটোর জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে এক নারীসহ মোট চারজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নতুন করে সংরক্ষিত মহিলা আসনে আরও দুই নারীকে মনোনয়ন দেওয়ায় জেলায় এখন তিনজন নারী ও তিনজন পুরুষ সংসদ সদস্যের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হলো, যা স্থানীয় রাজনীতিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে।
সংরক্ষিত আসনে মনোনীত সানজিদা ইয়াসমিন তুলি নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) এলাকার মেয়ে। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ইডেন কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি জিয়া স্মৃতি পাঠাগার কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান কমিটির সদস্য।
রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে একাধিকবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন তুলি। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের দিন ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথে অবস্থান নেওয়ার সময় ছাত্রলীগের হামলায় গুরুতর আহত হন তিনি। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ১ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পুলিশের হামলায় রক্তাক্ত হন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বরে ছাত্রলীগের আরেকটি হামলায়ও তিনি গুরুতর আহত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই দল তাকে সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন দিয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
অপরদিকে, নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল এলাকার বাসিন্দা আন্না মিনজ বিএনপির কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট জন গমেজের সহধর্মিণী। তিনি ওঁরাও সম্প্রদায়ের একজন পরিচিত মুখ এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার ও উন্নয়নে কাজ করে আসছেন।
আন্না মিনজকে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেওয়াকে উত্তরবঙ্গের খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় মাল পাহাড়িয়া জাতিগোষ্ঠীর নেতা জুলিয়ান বিশ্বাস ও অন্দ্রিয়াস বিশ্বাস মনে করেন, এই মনোনয়নের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠ আরও জোরালো হবে।
তারা বলেন, “আন্না মিনজ দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের সঙ্গে কাজ করেছেন। তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণই তাকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি এবার সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে শুধু রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং ত্যাগ, সংগ্রাম, নেতৃত্বগুণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকে গুরুত্ব দিয়েছে। এর ফলে দলীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন