কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি 

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের বিরুদ্ধে সংবাদকর্মীদের ফোন রিসিভ না করা এবং ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে অনীহার অভিযোগ উঠেছে। জেলার উন্নয়ন, সমস্যা ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য নিতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি অধিকাংশ সময় ফোন না ধরে “Please text me” লিখে বার্তা পাঠান বলে অভিযোগ করেছেন জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী। এতে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারে সাংবাদিকরা নানা ধরনের বিড়ম্বনার মুখে পড়ছেন বলে দাবি তাদের।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সময় টেলিভিশনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি বাদশাহ সৈকত জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও তিনি জেলা প্রশাসকের বক্তব্য পাননি।
বাদশাহ সৈকতের দাবি, পাঁচ বছর ধরে আটকে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ বাইপাস সড়কের ভূমি অধিগ্রহণ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নিতে গেলে তিনি জানান, আমি কিংবা আমার প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা ক্যামেরার সামনে কথা বলবেন না।
পরে নিজের ফেসবুক আইডিতে বাদশাহ সৈকত লিখেন, কোন গোপন রহস্যে সাংবাদিকদের ক্যামেরায় কথা বলতে চান না কুড়িগ্রামের ডিসি অন্নপূর্ণা দেবনাথ, জানতে চায় জাতি!
সাংবাদিকদের অভিযোগ, বর্তমান জেলা প্রশাসক দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে জেলার কোনো গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গেই ক্যামেরার সামনে কথা বলেননি। এমনকি তার অনুমতি ছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারাও সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দিতে অনাগ্রহী।
ডিবিসি নিউজের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ওয়াহিদুজ্জামান তুহিন বলেন, জেলার উন্নয়ন, সমস্যা কিংবা সংকটসংক্রান্ত বিষয়ে সংবাদ প্রচারের জন্য জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নিতে চাইলেই তিনি বিভিন্ন অজুহাতে তা এড়িয়ে যান।
এসএ টিভির কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, পরপর কয়েকজন নারী জেলা প্রশাসক দায়িত্ব পালন করলেও গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন তারা।
চ্যানেল ওয়ানের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি রাশেদুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসক জনগণের সেবক। গণমাধ্যম জনগণের মুখপাত্র। তাই গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলা মানে জনগণের কাছে জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়া।
দেশ টিভির কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জুয়েল রানা বলেন, তিনি যতবার বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য নিতে ফোন করেছেন, অধিকাংশ সময়ই ফোন রিসিভ না করে “Please text me” বার্তা পেয়েছেন।
জাগো নিউজ ও দৈনিক কালের কণ্ঠের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি রোকনুরজ্জামান মানু বলেন, বিভিন্ন সংবাদের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করলেও অধিকাংশ সময় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
দীপ্ত টিভির কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি মো. ইউনুছ আলী বলেন, সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে চলা কোনোভাবেই ইতিবাচক বার্তা দেয় না।
নাগরিক টিভির কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ফজলুল করিম ফারাজি বলেন, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে গণমাধ্যমের কার্যকর যোগাযোগ না থাকলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যথাযথভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা কঠিন হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য করুন