আরসিটিভি ডেস্ক 

অভাবের সংসার। প্রতিদিন ঝালমুড়ি বিক্রি করে যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনোমতে চলে পরিবার। তবুও অর্থের লোভ তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। বরং সততা আর মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ঝালমুড়ি বিক্রেতা জয়নাল আবেদীন (৪৪)।
রোববার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় রৌমারী-ঢাকা মহাসড়কের কর্তিমারী বাজার এলাকায় ঝালমুড়ি বিক্রি শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার পাশে একটি ব্যাগ দেখতে পান তিনি। প্রথমে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলেও পরে ব্যাগটি খুলে দেখেন, ভেতরে রয়েছে নগদ ৩৭ হাজার টাকা। নিজের অভাব-অনটনের কথা ভেবে মুহূর্তের জন্যও টাকাগুলো নিজের করে নেওয়ার চিন্তা করেননি জয়নাল। তাঁর একটাই লক্ষ্য ছিল—যেভাবেই হোক টাকার প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করা।
এই কাজে তিনি সহযোগিতা চান স্থানীয় সংবাদকর্মী আনিছের। ঘটনার বিস্তারিত জেনে সংবাদকর্মী বিষয়টি নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টটি ছড়িয়ে পড়তেই অল্প সময়ের মধ্যে টাকার প্রকৃত মালিকের স্বজনরা জয়নালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে জয়নাল আবেদীন ব্যাগে থাকা পুরো ৩৭ হাজার টাকা প্রকৃত মালিক ৯০ বছর বয়সী আবুল হোসেনের হাতে তুলে দেন। আবুল হোসেন রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের ধনারচর পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
হারিয়ে যাওয়া টাকা ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রবীণ আবুল হোসেন। তিনি বলেন, টাকাগুলো হারিয়ে আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। মনে হয়েছিল আর কখনো ফিরে পাব না। কিন্তু জয়নালের মতো একজন সৎ মানুষের কারণে আমার কষ্টার্জিত টাকা ফিরে পেলাম। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন।
স্থানীয় সংবাদকর্মী আনিছুর রহমান বলেন, চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও জয়নাল আবেদীনের সততা সত্যিই অনুকরণীয়। বর্তমান সময়ে যখন অর্থের লোভে অনেকেই মানবিকতা ভুলে যায়, তখন জয়নালের এই কাজ সমাজে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারাও জয়নালের এমন সততার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, সমাজে এখনও এমন মানুষ আছেন বলেই মানবিকতা ও বিশ্বাস টিকে আছে।
কবি সাহিত্যিক সাম্য রাইয়ান ঝাল মুড়ি বিক্রেতার ভুয়সী প্রশংসা করে বলেন,সততা কোনো সম্পদের ওপর নির্ভর করে না, এটি মানুষের চরিত্রের সবচেয়ে বড় পরিচয়। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগ শুধু একজন বৃদ্ধকে হারানো টাকা ফিরিয়ে দেয়নি, সমাজকে দিয়েছে সততা ও নৈতিকতার এক অনন্য শিক্ষা।
মন্তব্য করুন