আরসিটিভি ডেস্ক 

বগুড়ার মহাস্থানগড়ে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী হযরত শাহ সুলতান বলখীর (র.) মাজারের ১৫টি দানবাক্স খুলে পাওয়া গেছে প্রায় ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। নগদ অর্থের পাশাপাশি মিলেছে স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে প্রশাসনের কর্মকর্তা, সরকারি প্রতিনিধি ও মাজার কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। পরে ২৫ জন শিক্ষার্থীর সহায়তায় অর্থ গণনার কাজ শুরু হয়। প্রথম দিনে গণনা শেষ না হওয়ায় বুধবার সকাল থেকে পুনরায় গণনা শুরু করা হয়। বিকেলে গণনা শেষে মোট প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।
গণনা কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহজালাল জানান, দুই দিনব্যাপী গণনা শেষে দানবাক্সগুলো থেকে মোট প্রায় ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। গণনা শেষে অর্থ মাজারের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে।
মাজার কমিটির সদস্যরা জানান, এবার দানবাক্সের সংখ্যা বেশি থাকায় আগের তুলনায় প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নগদ অর্থের পাশাপাশি পাওয়া স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ম অনুযায়ী সংরক্ষণ ও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি তিন থেকে চার মাস পরপর মাজারের দানবাক্সগুলো খোলা হয়। দীর্ঘ সময় পর খোলা ১৫টি লোহার সিন্দুক টাকা, পয়সা, বিদেশি মুদ্রা এবং ভক্তদের দেওয়া স্বর্ণ-রৌপ্য অলংকারে পরিপূর্ণ ছিল। দানবাক্স থেকে সংগৃহীত অর্থ প্রথমে বস্তাবন্দী করে মাজার কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে ব্যাংক কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় তা গণনা করা হয়।
দানবাক্সের অর্থ গণনার কাজে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, এত বিপুল পরিমাণ অর্থ গণনার কাজে অংশ নেওয়া তাদের জন্য ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা। ভবিষ্যতে এমন কাজে দায়িত্বশীলভাবে অংশ নিতে এ অভিজ্ঞতা কাজে দেবে বলে তারা মনে করেন।
এর আগে প্রায় তিন মাস আগে খোলা পাঁচটি দানবাক্স থেকে প্রায় ১৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা পাওয়া গিয়েছিল। মাজার কর্তৃপক্ষের মতে, বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বার্ষিক ওরস মাহফিলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক লাখ মানুষের সমাগম হওয়ায় এবার দানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
মাজার কমিটির সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা রবিউল করিম জানান, প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থী মাজারে আসেন এবং দান করেন। দানবাক্স থেকে প্রাপ্ত অর্থ মাজারের উন্নয়ন, এতিমখানা পরিচালনা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন এবং স্থানীয় দরিদ্র মানুষের সহায়তায় ব্যয় করা হয়।
মন্তব্য করুন