গাইবান্ধা প্রতিনিধি 

বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর পার হয়ে গেছে পুরো এক রাত। সব জায়গায় খোঁজ নিয়েও মিলছিল না কোনো সন্ধান। অবশেষে বৃহস্পতিবার ভোরে স্বজনদের দুশ্চিন্তার অবসান ঘটল, তবে তা এক বুক কান্না আর গভীর বেদনা নিয়ে। বাড়ির কাছের এক পুকুরে মিলল মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধ আনছার আলীর (৬৪) নিথর দেহ।
হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনিরাম গ্রামে। নিহত আনছার আলী পার্শ্ববর্তী দেওডোবা গ্রামের মৃত কাবাজ উদ্দিনের ছেলে। সরকারি খাতায় তাঁর নামে ছিল একটি প্রতিবন্ধী কার্ড; আর বাস্তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভুগছিলেন মানসিক ভারসাম্যহীনতায়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই বাড়ি থেকে বের হয়ে যান আনছার আলী। এরপর আর ফেরেননি। সারা রাত সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো হদিস পাননি স্বজন ও স্থানীয়রা। ভোর হতেই মনিরাম গ্রামের দলু মিয়ার বাড়ির পাশের পুকুরে তাঁর মরদেহ ভেসে উঠতে দেখেন এলাকাবাসী।
খবর পেয়ে বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তা বলেন, “আনছার আলী দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গতকাল নিখোঁজের পর আমরা সবাই খুঁজেছি, কিন্তু সকালে এভাবে পুকুরে তাঁর লাশ পাব ভাবিনি।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এটিকে অপমৃত্যু বলেই মনে হচ্ছে। যেহেতু নিহত ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ ছিল না, তাই প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এক রাতের নিখোঁজ সংবাদ যে এভাবে পুকুরের পাড়ে এসে সলিল সমাধিতে শেষ হবে, তা মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। তাঁর বিদায়ে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
মন্তব্য করুন