আরসিটিভি ডেস্ক 

গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলায় অসুস্থ বাবাকে জিম্মি করে ব্যাংকে থাকা প্রায় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে মেয়ে ও ব্যাংক ম্যানেজারসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ঘটনার আড়াই মাস পর ময়নাতদন্তের জন্য নিহত বৃদ্ধের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করেছে প্রশাসন।
নিহত বৃদ্ধের নাম তৈয়ব আলী সরকার। তিনি উপজেলার তালুক সাহাবাজ গ্রামের বাসিন্দা। গত ২৩ জুন তার বড় মেয়ে মোছা. কহিনুর বেগম (৬০) বাদী হয়ে ছোট বোন রহিমা বেগমকে (৪৫) প্রধান আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- রহিমা বেগমের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (২৫), তার স্বামী হামিদুল ইসলাম (৩৫) এবং ইসলামী ব্যাংক নলডাঙ্গা শাখার ম্যানেজার সোহাগ মিয়া। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলা সুত্রে জানা যায়, তৈয়ব আলীর নলডাঙ্গা ইসলামী ব্যাংক শাখায় জমা থাকা টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ছোট মেয়ে রহিমা বাবার চেকবই চুরি করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি বৃদ্ধ ব্যাংকে লিখিতভাবে জানিয়ে উক্ত হিসাব থেকে টাকা লেনদেন বন্ধের অনুরোধ জানান।
এরপর গত ১৪ মার্চ রহিমা অসুস্থ বাবাকে চিকিৎসার কথা বলে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে বড় মেয়ে রংপুর নেয়ার প্রস্তাব দিলেও রহিমা তাতে বাধা দেন। অভিযোগ রয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জোরপূর্বক বৃদ্ধের কাছ থেকে চেকে স্বাক্ষর নিয়ে দুই দফায় ১৭ লাখ ৭২ হাজার ৬৩৮ টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন।
টাকা উত্তোলনের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ও সম্পত্তি হস্তগত করার উদ্দেশ্যে গত ১৯ মে রাত ১১টার দিকে আসামিরা তৈয়ব আলীকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। মৃত্যুর পরপরই তাড়াহুড়ো করে দাফন সম্পন্ন করা হলেও পরে কাফনের কাপড়ে রক্তের দাগ ও ব্যাংকের জালিয়াতি উন্মোচিত হলে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।
গত মঙ্গলবার (৪ জুলাই) আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে এবং সাদুল্লাপুর থানার এসআই রিপন ও নলডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল গফুরের সহায়তায় কবর থেকে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়।
এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল ইসলাম হাবিব বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কবর থেকে উত্তোলনের পর মরদেহটি প্রথমে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে উন্নত ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে মামলার তদন্ত ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন