দিনাজপুর প্রতিনিধি 

লেখাপড়া শিখে কাংখিত লক্ষ্যে পৌছতে না পারলেও মানুষের জীবনটি যে একেবারেই বৃথা নয়, তা প্রমাণ করেছে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার যুবক তানজিমুল ইসলাম। কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা আর সৃষ্টিশীল মানসিকতা মানুষকে শেষ পর্যন্ত সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌছে দিতে পারে-তারই স্বাক্ষর রেখেছে গ্রামের এই যুবক। একই খামারে সৃষ্টি করেছেন নানামুখী আয়ের পথ, লেখাপড়া করে নিজে সরকারী চাকুরী না পেলেও সৃষ্টি করেছেন বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ।
দিনাজপুরের বিরল উপজেলার রামপুর গ্রামের তানজিমুল ইসলাম। ইচ্ছা ছিলো লেখাপড়া শিখে সরকারী ভালো একটি চাকুরী করার। কিন্তু লেখাপড়া শেষ করলেও ভাগ্যে জোটেনি সরকারী চাকুরী। শেষ পর্যন্ত আত্মপ্রত্যয়ী হন নিজে কিছু করার। নিজের বাড়ীর পাশে গড়ে তোলেন দুগ্ধ খামার। সেই খামার করেই বসে থাকেন নি তিনি। খামারে পালিত গরুর গোবর দিয়েই গড়ে তোলেন গোবর, কেঁচো আর বর্জ্র পদার্থ দিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট সার।
তানজিমুল ইসলাম জানান, দুগ্ধ খামারের পাশাপাশি এই সার বিক্রি করে অনেক আয় হচ্ছে তার।
লেখাপড়া শিখে নিজে একসময় বেকার থাকলেও এই খামার গড়ে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন তিনি। তার খামারে কাজ করে জীবিকার পথ পেয়েছেন অনেকেই।
শিক্ষিত যুবক তানজিমুল ইসলাম একজন সফল উদ্যোক্তা। তার খামারে দুগ্ধ উৎপাদনের পাশাপাশি গরুর গোবর, খামারে উচ্ছিষ্ট আর কেঁচো দিয়ে সার তৈরী করছেন তিনি। কৃষি জমির উর্বরতা ও ফসলের উৎপাদন বাড়াতে এই সারের ব্যাপক চাহিদা। এই সার উৎপাদনে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বিক পরামর্শ দিয়ে সহায়তাও দেয়া হচ্ছে বলে জানান।
তানজিমুল ইসলাম, এলাকার বেকার যুবকদের অনুকরনীয় হয়ে উঠতে শুরু করেছে। শুধুমাত্র সরকারী চাকুরীর পিছনে না ছুটে বেকার যুবকরা এভাবেই নিজে কিছু করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে-এমন প্রত্যাশা সবার।
মন্তব্য করুন