মোঃ হাবিব, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

এক-দুই ঘণ্টা নয়, টানা ৪৪ ঘণ্টা ধরে সীমান্তের খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ১১ জন মানুষ। তাদের মধ্যে রয়েছে নিষ্পাপ শিশু, নারী ও বয়স্ক সদস্যরা। অনিশ্চয়তা আর দুর্ভোগের মধ্যে কাটছে তাদের প্রতিটি মুহূর্ত।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কখনো প্রখর রোদে পুড়ছে তাদের শরীর, আবার কখনো ঝুম বৃষ্টিতে ভিজে কাঁপতে হচ্ছে। নেই পর্যাপ্ত খাবার, নেই নিরাপদ আশ্রয়। সীমান্তের কাঁটাতারের পাশে অসহায়ভাবে অপেক্ষা করা এসব মানুষের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে আতঙ্ক, ক্লান্তি ও অনিশ্চয়তার ছাপ।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য হলো শিশুদের কান্না আর মায়েদের অসহায় অপেক্ষা। দীর্ঘ সময় ধরে এমন পরিস্থিতিতে থাকার কারণে তাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, এই অবুঝ শিশু ও নারীরা কোন অপরাধের শাস্তি ভোগ করছে? মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
কাঁটাতারের এপারে-ওপারে নানা আলোচনা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চললেও, ক্ষুধার্ত শিশুর কান্না এবং অসহায় মানুষের অপেক্ষা যেন থামছে না। সীমান্তের এই দৃশ্য শুধু একটি ঘটনার বর্ণনা নয়, এটি মানবতা, মানবাধিকার ও বিবেকের কাছে এক কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে।
দীর্ঘ ৪৩ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো মেলেনি কোনো স্থায়ী সমাধান। ফলে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—মানবাধিকারের কথা বলা এই পৃথিবীতে, অসহায় এসব মানুষের পাশে দাঁড়াবে কে?
মন্তব্য করুন