নাটোর প্রতিনিধি 

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার বাজার নাটোরের চকবৈদ্যনাথ চামড়া আড়তে কোরবানির পশুর লবণজাত চামড়া আসতে শুরু করেছে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে। ঈদের পর থেকেই জমে উঠেছে চামড়ার বেচাকেনা। তবে ট্যানারি মালিক ও প্রতিনিধিদের উপস্থিতি কম থাকায় কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে আড়তদারদের দাবি, সরকার নির্ধারিত দামেই চামড়া কেনাবেচা হচ্ছে এবং ভালো মানের চামড়ার ক্ষেত্রে বেশি দামও দেওয়া হচ্ছে।
নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে অবস্থিত চকবৈদ্যনাথ চামড়া আড়ত দেশের অন্যতম বৃহৎ চামড়া সংগ্রহকেন্দ্র। প্রায় দুই শতাধিক আড়ত নিয়ে গড়ে ওঠা এই বাজারে ঈদের দিন থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঁচা চামড়া আসতে শুরু করে। পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লবণজাত চামড়া এনে মজুত করেন ব্যবসায়ীরা।
চামড়া ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, কোরবানির ঈদের প্রথম সপ্তাহেই আড়তে এক লাখের বেশি গরুর চামড়া এবং প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ খাসি, বকরি ও ভেড়ার চামড়া সংগ্রহ হয়েছে। বর্তমানে আড়তের বিভিন্ন স্থানে চামড়ার স্তূপ দেখা যাচ্ছে। প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের ট্যানারিগুলোর চাহিদার বড় একটি অংশ নাটোরের এই বাজার থেকেই সরবরাহের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাটোরের চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, এখনো দূরবর্তী জেলার চামড়া পুরোপুরি আসা শুরু হয়নি। দেশের প্রায় ৩৫ থেকে ৩৮টি জেলার চামড়া এই বাজারে আসে। আগামী সপ্তাহ থেকে আরও বেশি পরিমাণে চামড়া আসবে বলে তারা আশা করছেন। তবে ট্যানারি মালিক বা প্রতিনিধিরা এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় না আসায় বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দাম তৈরি হচ্ছে না।
একজন চামড়া ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন খান বলেন, “ভালো মানের চামড়ার চাহিদা সবসময় বেশি থাকে। তবে বর্তমানে ট্যানারি মালিকরা না আসায় সরকার নির্ধারিত দামের কাছাকাছি পৌঁছানো যাচ্ছে না। তারপরও বেচাকেনা চলছে।”
মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চামড়া সংগ্রহ করে লবণজাত করার পর নাটোরের আড়তে নিয়ে এলেও অনেক ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্যও উঠছে না। এতে লবণ, শ্রমিক ও পরিবহন খরচ মিলিয়ে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।
একজন মৌসুমি ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, “চামড়া কিনে আড়তে নিয়ে এসেছি। কিন্তু এখানে অনেকেই দামই বলতে চাচ্ছেন না। যে দামে কিনেছি, সেই দামও পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অনেকে কিনা দামেই বিক্রি করে চলে যাচ্ছেন।”
নাটোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি সায়দার খান বলেন, “কোরবানির ঈদের পর থেকে এখন পর্যন্ত এক লাখের বেশি গরুর চামড়া এবং প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ খাসি-বকরির চামড়া সংগ্রহ হয়েছে। অল্প কিছু ট্যানারি প্রতিনিধি চামড়া কিনতে এসেছেন। কয়েকদিনের মধ্যে ঢাকা থেকে ট্যানারি মালিক ও প্রতিনিধিরা এলে বাজার আরও চাঙ্গা হবে। বর্তমানে সরকার নির্ধারিত দামেই চামড়া ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “নাটোরে সংগ্রহ হওয়া চামড়ার গুণগত মান ভালো হওয়ায় ট্যানারিগুলোর কাছে এর চাহিদা সবসময় বেশি। ট্যানারি মালিকরা নগদ অর্থ নিয়ে এলে ব্যবসায়ীরা আরও ভালো দাম পাবেন বলে আশা করছি।”
এ বিষয়ে নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, “সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া ক্রয়-বিক্রয় নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। কোনো ব্যবসায়ী যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং চামড়া যাতে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”
চামড়া ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ট্যানারি মালিক ও প্রতিনিধিদের উপস্থিতি বাড়লে নাটোরের ঐতিহ্যবাহী চামড়া বাজার আরও জমজমাট হয়ে উঠবে এবং ব্যবসায়ীরা কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাবেন।
মন্তব্য করুন