আরসিটিভি ডেস্ক 

চীনের নয়, নিজস্ব অর্থ ও পরিকল্পনায় তিস্তা মহাপ্রকল্পের কাজ শুরু করতে চায় সরকার। পানিসম্পদ মন্ত্রী জানান, প্রয়োজনে দাতা সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বেইজিং থেকেও নেওয়া হতে পারে সহায়তা। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশের বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ ও সমীক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও জানান শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ নানা ইস্যুতে বেইজিং সফরের আগে মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চীনের ওপর আস্থা রাখতে চায় বর্তমান সরকার।
তবে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, পাওয়ার চায়নার প্রস্তাবিত প্রকল্পের বিষয়ে এখনও চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এই মন্ত্রী বলেন, ‘এইটা প্রাথমিক পর্যায়ে আছে সেটার অর্থনৈতিক সাপোর্ট নিয়ে ওইভাবে কারো সাথে চুক্তি হয়নি।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ফাস্ট প্রায়োরিটি হলো বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের রিপোর্ট, তারপর অন্য দেশের সাথে আমরা এটা অ্যাডজাস্ট করব।’
তিস্তা চুক্তিতে ভারতের অনীহার কারণে, ২০১৬ সালে নদীটি রক্ষা ও ব্যবস্থাপনায় চীনমুখি হয় বাংলাদেশ। ২০১৯ সাল পর্যন্ত চলে সমীক্ষা। প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পে আগ্রহ দেখায় বেইজিং। তবে দিল্লির নতুন প্রস্তাবের পর পিছু হটে আওয়ামী লীগ সরকার।
২০২৪ সালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার চীনের তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করে। সমীক্ষার জন্য হয় সমঝোতা স্মারক।
তিস্তা পাড়ের লাখো মানুষের দূর্দশা কমাতে মহাপরিকল্পনা বাস্তাবায়নের প্রতিশ্রুতি দেয় বিএনপি।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘এই প্রজেক্ট আমরা আমাদের ফান্ড দিয়ে করার চেষ্টা করব। এরপর এক্সট্রা টাকা যেটা লাগবে সেটা ওয়াল্ড ব্যাংকের প্রজেক্ট আছে এডিবির প্রজেক্ট আছে, জাইবার লোন আছে, আমরা যেখান থেকে নিই, চায়নাও দিতে পারে। সবকিছু মিলিয়ে যারটা বেশি ফিসিবল হবে সেদিকে আমরা যাব।’
তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারতের অপেক্ষায় না থেকে বিকল্প ব্যবস্থায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, চুক্তি নেই। তাহলে যে প্রজেক্ট আছে সেটা বর্ষার সময়, বন্যার সময় মানুষ কষ্ট পাবে। আর খড়া মৌসুমে মানুষ পানি পাবে না, কষ্টে থাকবে…এই জন্য ওই জায়গায় কীভাবে পানি জমিয়ে রেখে কৃষি বা সেচের জন্য ব্যবহার করব সে জন্যই আমাদের ওই পরিকল্পনা। এখানের সাথে চুক্তির কোনো সম্পর্ক নেই।’
তিস্তা মহাপরিকল্পনার গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিতে, সব ধরনের যাচাই-বাছাই ও সমীক্ষা শেষে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করার কথা জানান পানিসম্পদ মন্ত্রী।
সূত্র : ইন্ডিপেন্ডেন্ট
মন্তব্য করুন