RCTV Logo আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১ মে ২০২৬, ২:০১ অপরাহ্ন

ইরানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়, আইনি জটিলতার মুখে ট্রাম্প

ইরানে হামলা শুরুর দুই মাস পেরিয়ে গেছে। অস্ত্রবিরতি চললেও যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়নি। এ অবস্থায় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত সাংবিধানিক নিয়মের মুখোমুখি হতে হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে।

যুদ্ধের উদ্দেশে একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর নির্বাহী ক্ষমতায় সর্বোচ্চ ৬০ দিন সেনা মোতায়েন রাখতে পারেন। এই সময় শেষ হলে সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে এই সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা। তবে এখনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

কংগ্রেসের বেঁধে দেওয়া এই সময়সীমার তোয়াক্কা না করার ইঙ্গিত দিয়েছে হোয়াইট হাউস। ফলে নতুন করে হামলার শঙ্কায় বৃহস্পতিবার শেষ রাতের দিকে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছিল ইরান।

আইআরজিসি ঘনিষ্ঠ বার্তা সংস্থা তাসনিম ও ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী তেহরানের কিছু এলাকায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শব্দ শোনা গেছে। প্রায় ২০ মিনিট ধরে ‘ছোট বিমান ও নজরদারি ড্রোন’ লক্ষ্য করে এই ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছিল। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সময়ে প্রতিনিধি পরিষদে যুদ্ধের মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমোদন নেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন এবং কংগ্রেসের মধ্যে এক ধরনের সাংবিধানিক বিরোধের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

গত মার্চের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর হামলার বিষয়টি কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিলেন। তখন থেকেই আইন অনুযায়ী ৬০ দিনের সময়সীমা গণনা শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী, আইনপ্রণেতারা অতিরিক্ত সময়ের অনুমোদন না দিলে প্রশাসনকে হামলা বা যুদ্ধ বন্ধ করতে হয়।

ডেমোক্র্যাটদের দাবি, প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে নড়বড়ে আইনি অবস্থানের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন। এই সময়সীমা পার হয়ে গেলে তিনি আইনত অপরাধী সাব্যস্ত হবেন। সিনেটে ডেমোক্র্যাটিক দলের নেতা চাক শুমার রিপাবলিকানদের প্রতি যুদ্ধ বন্ধে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ৬০ দিনের এই সময়সীমা পার হওয়ার পর ট্রাম্প ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’ লঙ্ঘন করছেন বলে গণ্য করা হবে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ। তাদের যুক্তি, যেহেতু গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে এবং কোনো হামলাও হয়নি, সুতরাং ওইদিনই ৬০ দিনের সময়সীমা গণনা বন্ধ হয়ে গেছে। এএফপিকে প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘ওয়ার পাওয়ার রেজোলিউশন’ অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাত যুদ্ধবিরতি কার্যকরের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে। গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আর কোনো গোলাগুলি বা হামলা হয়নি।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

লালমনিরহাটে র‍্যাব-১৩ এর অভিযানে মাদকসহ নারী গ্রেফতার

মে দিবসে শ্রমজীবী মানুষের প্রতি ড. ইউনূসের শ্রদ্ধা

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে, বাজেটে নতুন পরিকল্পনা

যুদ্ধবিরতি ব্যবহার করে মাটির নিচে থাকা অস্ত্র ও মিসাইল তুলছে ইরান

শুরু হলো বিএনপির শ্রমিক সমাবেশ, বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান

৩ দিন নিখোঁজ থাকার পর ডোবায় মিলল শিশুর মরদেহ

মালয়েশিয়ায় ৪ বাংলাদেশিসহ ২১ জন আটক  

সীমান্তে নিরাপত্তার পাশাপাশি মানবিকতায়ও অগ্রণী ৫১ বিজিবি, এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে সহায়তা বিতরণ

জিয়াউর রহমানের শ্রমনীতি শ্রম কল্যাণের ভিত মজবুত করেছে : রাষ্ট্রপতি

১০

ইরানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়, আইনি জটিলতার মুখে ট্রাম্প

১১

ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী সাদিক কায়েম

১২

ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব

১৩

‘মৃত্যুর আগে জটিল মানসিক রোগ ও আত্মতৃপ্তিতে ভুগছিলেন ম্যারাডোনা’

১৪

গাইবান্ধায় নানা আয়োজনে মহান মে দিবস পালিত

১৫

এয়ারপোর্ট রোডে দুর্ঘটনা: ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু

১৬

ডিসি সম্মেলন শুরু ৩ মে

১৭

নীলফামারীতে মসজিদের ব্যাটারি চুরির অভিযোগে কিশোর আটক

১৮

আলভারেজকে চায় বার্সেলোনা, না পেলে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল তারকার দিকে নজর

১৯

শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা আজ

২০