RCTV Logo আরসিটিভি ডেস্ক
২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন

জাতীয় গ্রিডে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগবে প্রায় ১০ মাস

ছবিঃ সংগৃহীত

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রম শুরু হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী ৩৩তম দেশের তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশ। তবে জাতীয় গ্রিডে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগবে প্রায় ১০ মাস। গতকাল মঙ্গলবার কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এই জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন হওয়ায় পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ।

সেই সঙ্গে জ্বালানি খাতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।

এ অবস্থায় রি-অ্যাক্টরের ডিজাইন অনুযায়ী, ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি রি-অ্যাক্টর কোরে স্থাপন করতে হবে, যার জন্য সময় লাগবে ৩০ দিন। এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুসরণ করে সম্পন্ন করতে হয় এবং বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করা হয়। জ্বালানি লোডিং শেষে শুরু হবে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ।

এ পর্যায়ে ডিজাইন অনুযায়ী নিউক্লিয়ার ফিশন রি-অ্যাকশন ঘটানো হয় এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে, যার জন্য প্রায় ৩৪ দিন সময় প্রয়োজন হবে। পরীক্ষা শেষে রি-অ্যাক্টরের পাওয়ার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করে পর্যায়ক্রমে ৩ শতাংশ, ৫ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ২০ শতাংশ, ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হবে, যার জন্য সময় লাগবে ৪০ দিন। রি-অ্যাক্টরের পাওয়ার ৩ শতাংশে উন্নীত হলেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। পরে ধাপে ধাপে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি চলবে নিরাপত্তাবিষয়ক নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা।

সব মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগবে প্রায় ১০ মাস।

নির্মাণ চুক্তি অনুযায়ী, তিন বছরের জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া। অর্থাৎ এই সময়ে জ্বালানি আমদানি নিয়ে কোনো চিন্তা নেই। এরপর বাংলাদেশকে জ্বালানি তথা ইউরেনিয়াম আমদানি করতে হবে। তবে সেই জ্বালানি দুই বছর পর পর পরিবর্তন করলেই চলবে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পরমাণু শক্তি করপোরেশনের (রোসাটম) মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি। আলোচনা শেষে অতিথিরা স্বয়ংক্রিয় সুইচ টিপে জ্বালানি লোডিং উদ্বোধন করেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি লোডিং পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের শেষ প্রস্তুতিমূলক ধাপ। এরপর শুরু হবে ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলক উৎপাদন। রি-অ্যাক্টরের ক্ষমতা ৩ শতাংশে পৌঁছলেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। আগামী আগস্টে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে। পরে ধাপে ধাপে পুরো সক্ষমতার এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে এই ইউনিট থেকে।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়ায় ইউরেনিয়াম বিভাজনের মাধ্যমে তাপ উৎপন্ন হবে। সেই তাপে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে টারবাইন ঘোরাবে এবং উৎপন্ন হবে বিদ্যুৎ। প্রথম ইউনিটে ১৬৩টি জ্বালানি বান্ডেল ব্যবহার করা হবে, যা একবার লোডে প্রায় ১৮ মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছিল সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা। সেই ধারাবাহিকতায় জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা বাংলাদেশ ও রাশিয়ার জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে রাশিয়ার সমর্থন এবং পরবর্তী পুনর্গঠনে তাদের সহযোগিতা দুই দেশের বন্ধুত্বকে আরো দৃঢ় করেছে।

তিনি বলেন, এই প্রকল্প দেশের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। পারমাণবিক শক্তি ভবিষ্যতে শিল্পায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হবে।

প্রকল্পটির ইতিহাস তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ১৯৬১ সালে এর ধারণা আসে এবং বিভিন্ন সময়ে সমীক্ষার পর ১৯৯৫ সালে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে পারমাণবিক প্রযুক্তির ভিত্তি গড়ে ওঠে। রূপপুর প্রকল্পে দুটি ভিভিইআর-১২০০ ইউনিটের মাধ্যমে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, রূপপুর প্রকল্প শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দেশীয় সক্ষমতার একটি বাস্তব প্রতিফলন। ধারণা থেকে বাস্তবে রূপ নেওয়ার এই দীর্ঘ যাত্রা ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং, তবে একই সঙ্গে শিক্ষণীয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ জ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি, অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা এই প্রকল্পকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার কারিগরি সহায়তা ও আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ প্রকল্পটিকে আরো নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য করেছে। নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা— এই তিনটি বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি তার রেকর্ডকৃত বক্তব্যে বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, রূপপুরে জ্বালানি লোডিং একটি বড় অর্জন, যা দেশের জন্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

তিনি বলেন, এই সংস্থা শুরু থেকেই বাংলাদেশের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে এবং নিরাপদ ও সুরক্ষিত বাস্তবায়নে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। পারমাণবিক শক্তি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি, এ কথা উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যতেও পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারকারী দেশের কাতারে যুক্ত হয়েছে।

তিনি জানান, মহামারি, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও প্রকল্পের কাজ এক দিনের জন্যও বন্ধ হয়নি। বর্তমানে প্রকল্পটি সমাপ্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় ইউনিটে পাইপলাইন ও পাম্পিং সরঞ্জাম স্থাপনের কাজ চলছে এবং আগামী বছর সেখানে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্পে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বিত কাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

রোসাটমের মহাপরিচালক আরো বলেন, রাশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এরই মধ্যে ৯০০-এর বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পারমাণবিক বিষয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করেছেন এবং তাদের অনেকেই এই প্রকল্পে কাজ করছেন। মোট এক হাজার ১০০-এর বেশি দক্ষ জনবল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যারা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

প্রকল্পের আকার ও ব্যয় : প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, আর্থিক বিবেচনায় বাংলাদেশের একক প্রকল্প হিসেবে এটিই সবচেয়ে বড় প্রকল্প। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সব সহযোগিতা করছে রাশিয়া। প্রায় এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মীয়মাণ এই প্রকল্পের ৯০ শতাংশ অর্থ ঋণ দিচ্ছে রাশিয়া, যেটা ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে শুরুতে প্রতি ইউনিটের খরচ ছয় টাকা ধরা হলেও অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, এখন দাম প্রায় ১২ টাকা পড়তে পারে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ব্যবহৃত তৃতীয় প্রজন্মের রি-অ্যাক্টর প্রযুক্তিতে স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। ব্যবহৃত জ্বালানি আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে। প্রায় ৬০ বছর আয়ুষ্কালের এই বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে আরো ৩০ বছর পর্যন্ত চালু রাখা সম্ভব।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, রূপপুর প্রকল্প শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বরং দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, দক্ষ জনবল তৈরি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্বন নিঃসরণ অত্যন্ত কম, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সহায়ক। একই সঙ্গে কম জ্বালানিতে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে কয়লা ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাবে এই কেন্দ্র। পারমাণবিক শক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক থাকলেও আধুনিক বাস্তবতায় এটি এখন পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে বিবেচিত।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি মূলত ইউরেনিয়াম থেকে তৈরি হয়। প্রথমে ইউরেনিয়াম অক্সাইড দিয়ে ছোট ট্যাবলেটের মতো জ্বালানি দানা (প্যালেট) বানানো হয়। এগুলোর ব্যাস সাধারণত আট থেকে ১৫ মিলিমিটার এবং দৈর্ঘ্য ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার। এমন অনেক জ্বালানি দানা প্রায় চার মিটার দীর্ঘ ধাতব নলের ভেতরে সাজিয়ে তৈরি হয় জ্বালানি রড। আবার নির্দিষ্ট কাঠামোয় অনেক রড একসঙ্গে যুক্ত করলে তৈরি হয় জ্বালানি বান্ডেল বা ফুয়েল অ্যাসেম্বলি। ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর আকাশপথে রাশিয়া থেকে ঢাকায় পৌঁছে পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান। এরপর আসে আরো কয়েকটি চালান। বিশেষ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সড়কপথে অক্টোবরে রূপপুরে নিয়ে যাওয়া হয় জ্বালানি। এরপর এটি মজুদ করে রাখা হয় রূপপুরে। অতিরিক্ত একটিসহ মোট ১৬৪টি বান্ডেল দেশে আনা হয়। রূপপুরে ব্যবহৃত প্রতিটি বান্ডেলে ৩১২টি জ্বালানি রড আছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এই জ্বালানি বান্ডেল চুল্লির কেন্দ্রে বসানো হচ্ছে। প্রথম ইউনিটে একসঙ্গে ১৬৩টি বান্ডেল ব্যবহার করা হবে। একবার জ্বালানি বসালে প্রায় ১৮ মাস বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। ব্যবহৃত জ্বালানিতে তেজস্ক্রিয় পদার্থ থাকে। তাই তা বিশেষ নিরাপত্তায় রাশিয়ায় নেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নজরদারিতে প্রতিটি জ্বালানি বান্ডেলের হিসাব থাকবে।

পারমাণবিক বিদ্যুতের বড় সুবিধা হলো এর জ্বালানি দক্ষতা বেশি। একটি এক হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বছরে প্রায় ৩০ লাখ টন কয়লা প্রয়োজন হয়। সেখানে সমপরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রতি বছর মাত্র ২৭ টন পারমাণবিক জ্বালানি লাগে। একই সক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিট থেকে বছরে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, তা প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের সমপরিমাণ। শুধু বড়পুকুরিয়া বাদে বাকি সবকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লা আমদানি করতে হয়, যা ব্যয়বহুল। অন্যদিকে দেশে গ্যাসের মজুদ ফুরিয়ে আসছে। নতুন অনুসন্ধান কার্যক্রমও চলছে ধীরগতিতে। ভয়াবহ গ্যাসসংকটের কারণে বিদ্যুতের পাশাপাশি কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অন্যান্য খাতেও রয়েছে গ্যাসের স্বল্পতা। এমন পরিস্থিতিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু

হিশামের বিষয়ে পুলিশকে আগেই সতর্ক করেছিল পরিবার

বজ্রপাতে প্রাণ গেল বাবার, কোল থেকে ছিটকে প্রাণে বাঁচল মেয়ে

জাতীয় গ্রিডে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগবে প্রায় ১০ মাস

৯ গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বায়ার্নকে হারাল পিএসজি

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম

সিরিজ জয়ের ম্যাচে কেমন হবে বাংলাদেশের একাদশ

দেশের ১৭ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

বাবরের ঝড়ো সেঞ্চুরিতে ফাইনালে পেশোয়ার

ইরানকে সহযোগিতা : ৩৫ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

১০

দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণ ও রুপার দাম

১১

আজ ২৯ এপ্রিল, দিনটি কেমন যাবে আপনার?

১২

নামাজের সময়সূচি – ২৯ এপ্রিল ২০২৬

১৩

বাংলাবাজারে বইয়ের দোকানে আগুন

১৪

সরাসরি নিয়োগ হবে ২ হাজার এএসআই

১৫

ফের ‘ইডিয়িটদের’ নিয়ে ব্যস্ত আমির খান, ১৭ বছর পর আসছে সিক্যুয়েল

১৬

রিয়ার হ্যাটট্রিকে সিঙ্গাপুরকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

১৭

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের হাই ভোল্টেজ ম্যাচে রাতে মুখোমুখি পিএসজি-বায়ার্ন মিউনিখ

১৮

কিশোর গ্যাং দমনে সরকার বদ্ধপরিকর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৯

সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন মার্কিন তরুণ সংগীত শিল্পী

২০