আরসিটিভি ডেস্ক 

আজ বৃহস্পতিবার দেশের পরিবহন খাতের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন হতে যাচ্ছে কারণ আজই নির্ধারিত হতে পারে বাস ও ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের নতুন ভাড়া। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে এই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। মূলত ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে অনেকটা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই ভাড়া পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআরটিএ এখন প্রস্তাবিত হারের খসড়া চূড়ান্ত করার পথে রয়েছে এবং মন্ত্রণালয়ের সবুজ সংকেত পেলেই তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।
এখানে মূল কথা হলো পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে দীর্ঘ দিন ধরেই দাবি করা হচ্ছিল যে বর্তমানে তারা ব্যাপক আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। কেবল ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়াই নয় বরং আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় যানবাহনের আমদানিকৃত খুচরা যন্ত্রাংশ এবং সামগ্রিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচও আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। বিষয়টি আসলে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে পরিবহন খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভাড়া সমন্বয় করা ছাড়া মালিকদের সামনে আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই। বিআরটিএ কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি গড়ে ২২ পয়সা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। যদিও সরকারি হিসেবে কেবল ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি বিবেচনায় নিলে এই বৃদ্ধির হার হওয়ার কথা ছিল মাত্র ১৫ পয়সা।
কিন্তু মালিকপক্ষ এখানে বেশ কিছু যুক্তি তুলে ধরেছেন। তারা বলছেন যে টায়ার এবং টিউব থেকে শুরু করে ইঞ্জিন অয়েল এবং লুব্রিকেন্টের মতো আনুষঙ্গিক জিনিসের দাম এখন আকাশচুম্বী। বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৪২ পয়সা যা নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ২ টাকা ৬৪ পয়সায় দাঁড়াতে পারে। অন্যদিকে দূরপাল্লার পথে এখনকার ২ টাকা ১২ পয়সার ভাড়া বাড়িয়ে ২ টাকা ৩৪ পয়সা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। গত রোববার রাতে বনানীতে বিআরটিএ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ বৈঠকে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করা হয় যা এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
সবার নজর এখন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের দিকে কারণ ভাড়ার এই নতুন হার সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের খরচে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ গত শনিবার রাত থেকেই নতুন দরে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু করেছে যেখানে প্রতি লিটার ডিজেল এখন ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে পেট্রোল ও অকটেনের দামও বাড়ানো হয়েছে যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে তারা এমন একটি যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করতে চান যাতে মালিকদের লোকসান না হয় আবার সাধারণ যাত্রীদের ওপরও যেন অতিরিক্ত বোঝা চেপে না বসে।
মন্তব্য করুন