আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলমান ছাত্র আন্দোলন নতুন মোড় নিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে টানা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) শুক্রবার সরকারের সঙ্গে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে।
সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়াকে ভেন্যু হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আলোচনার পাশাপাশি নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে তাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছে দলটি।
সিজেপি শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনায় সরকারের সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ হওয়া উচিত শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণ করা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন প্রণয়নের ঘোষণা দিলেও সিজেপির দাবি, শুধু আইন করলেই হবে না, দায়ীদের রাজনৈতিক জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে।
দ্য হিন্দু জানিয়েছে, চলমান বিক্ষোভের কারণে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে দিল্লি মেট্রোর ১৭টি স্টেশন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।
শুধু দিল্লিই নয়, সিজেপির ডাকা দেশব্যাপী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিহারের পাটনা, বেগুসরাই, দরভাঙ্গা, কাটিহার, জেহানাবাদ ও আরও কয়েকটি জেলায় পুলিশকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থী হোস্টেল, লজ ও হোটেলেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এরইমধ্যে গত ২০ জুলাই পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিলে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) পেলেট গান ব্যবহার করেছে—এমন অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। দিল্লি পুলিশ এর আগে এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) এক কর্মকর্তা বলেছেন, এ বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ যাচাই করা হচ্ছে এবং এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।
বিরোধী দলগুলোও এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উদ্দেশ করে বলেছেন, সংসদে আসার আগে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। একইসঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ, ব্যাটন ও পেলেট গান ব্যবহারের নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ অভিযোগ করেন, সরকার দীর্ঘদিন ধরে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা অস্বীকার করে এসেছে। তার ভাষায়, দুই মাস ধরে জনরোষ বাড়তে থাকায় শেষপর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন।
অন্যদিকে কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, জবাবদিহি দাবি করা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার বদলে সরকার দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। তার মতে, এটি ভারতের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত।
লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোটের সংসদ সদস্যরা বৃহস্পতিবার প্রতীকী পদযাত্রা করে শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। বিরোধী দলগুলোর অবস্থান হলো, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সংসদে কোনো বিতর্কে তারা অংশ নেবে না।
পৃথক এক ঘটনায়, সরকার দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় লাদাখের অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিনের অনশন প্রত্যাহার করেছেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকারের আশ্বাস পৌঁছে দেওয়ার পর তিনি অনশন ভাঙেন। তবে সিজেপি জানিয়েছে, ওয়াংচুকের সিদ্ধান্ত তাদের আন্দোলনে কোনো প্রভাব ফেলবে না এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন