দিনাজপুর প্রতিনিধি 

দিনাজপুরে পৃথক বিশেষ অভিযানে প্রায় ১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা মূল্যের তিনটি দুষ্প্রাপ্য প্রত্নবস্তু উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধারকৃত প্রত্নবস্তুর মধ্যে রয়েছে একটি কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ, একটি কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তি এবং একটি বেলে পাথরের মনসা মূর্তি। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এগুলোকে প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে নিশ্চিত করেছে।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৫ জুলাই দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিটে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসানের নেতৃত্বে বিজিবি ও থানা পুলিশের একটি যৌথ দল পার্বতীপুর উপজেলার মালিপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় একটি বাড়ি থেকে ১৩৯ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের একটি দুষ্প্রাপ্য কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার করা হয়।
এরপর ভোর ৫টায় কাহারোল উপজেলার ইছাইল এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযানে ১৩ কেজি ওজনের একটি কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তি এবং ৯ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি মূল্যবান বেলে পাথরের মনসা মূর্তি উদ্ধার করা হয়।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর উদ্ধারকৃত প্রত্নবস্তুগুলোকে প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে নিশ্চিত করেছেন। ১৯৬৮ সালের (১৯৭৬ সালে সংশোধিত) পুরাকীর্তি সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী এসব প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণের দায়িত্ব সরকারের পক্ষে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ওপর ন্যস্ত।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া প্রত্নবস্তুগুলোর মোট সিজার মূল্য ১ কোটি ৫৭ লাখ ৫ হাজার টাকা। তবে প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় এসব নিদর্শনের প্রকৃত মূল্য আরও অনেক বেশি।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য রক্ষা ও প্রত্নসম্পদ পাচার প্রতিরোধে বিজিবির গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি মাদক, মানবপাচার, অস্ত্র ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনেও বিজিবি সর্বদা তৎপর থাকবে।
মন্তব্য করুন