দিনাজপুর প্রতিনিধি 

স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে সরবরাহ করা বনরুটি নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে দিনাজপুর জেলা বেকারি মালিক সমিতি। ২৩ মে শনিবার দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সমিতির সভাপতি মোঃ সাইফুল্লাহ বলেন, দিনাজপুর জেলা বেকারি মালিক সমিতির আওতায় বর্তমানে ৭৫টি বেকারি রয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে পঞ্চগড়, গাইবান্ধা, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, নবাবগঞ্জ, গাজীপুর ও টঙ্গীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির জন্য বনরুটি সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কারণে দিনাজপুর থেকে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যেই এসব জেলায় নিরাপদ খাদ্য হিসেবে বনরুটি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। অথচ একটি স্বার্থান্বেষী মহল অসত্য তথ্য ছড়িয়ে বলছে, এসব খাদ্য পৌঁছাতে ৪ থেকে ৫ দিন সময় লাগে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, উৎপাদিত বনরুটিতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কোনো উপাদান ব্যবহার করা হয় না। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা ও পরীক্ষার ভিত্তিতেই এসব খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ করা হচ্ছে। কাঁচামাল হিসেবে বিএসটিআই অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহ করা ময়দা, চিনি, তেল ও ডালডা ব্যবহার করা হয় বলেও উল্লেখ করেন নেতারা।
সমিতির নেতারা অভিযোগ করেন, কিছু কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠান নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে “পটাশিয়াম ব্রোমেট” নামের ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা বলেন, এ ধরনের কোনো বিষাক্ত উপাদানের সঙ্গে তারা পরিচিত নন এবং নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমেই খাদ্য উৎপাদন করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দিনাজপুরের বেকারি শিল্প বর্তমানে একটি বড় শিল্পখাতে পরিণত হয়েছে। এ খাতে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। তাই এ শিল্প ধ্বংসের উদ্দেশ্যে যারা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এসময় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামিম শেখসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন