আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ফলাফল গণনায় এক অভাবনীয় রাজনৈতিক পালাবদলের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।
সবশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রধান বিরোধী দল বিজেপি এককভাবে ২০৫ আসনে জয় পেয়ে ম্যাজিক ফিগার ১৪৮-এর অনেক উপরে অবস্থান করছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা তৃনমূল কংগ্রেস এখন পর্যন্ত ৮২ আসনে জয় পেয়েছে।
বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক ভোটার বাদ পড়ার পর অনুষ্ঠিত এই প্রথম নির্বাচনেই রাজ্যের শাসকদল বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ল।
এবারের নির্বাচনে মূল লড়াই ছিল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং বর্তমানে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই নির্বাচনে বিজেপির প্রধান মুখ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
গত নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রীকে পরাজিত করার পর এবার তিনি মমতার খাসতালুক বলে পরিচিত ভবানীপুর কেন্দ্রে সরাসরি লড়াই করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। বিজেপি এবং তৃণমূল ছাড়াও এই লড়াইয়ে বাম-কংগ্রেস জোট এবং তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের নবগঠিত দলও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে, যা অনেক ক্ষেত্রেই ভোটের সমীকরণকে প্রভাবিত করেছে।
রাজ্যের ২৯৪টি আসনের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। বুথফেরত সমীক্ষাগুলো কোনো নির্দিষ্ট দলের নিরঙ্কুশ জয়ের আভাস দিতে না পারলেও, গণনার শুরু থেকেই বিজেপি বড় ব্যবধানে এগিয়ে যেতে শুরু করে। ২০২১ সালের নির্বাচনে যেখানে তৃণমূল ২১৫টি আসন পেয়ে ক্ষমতা দখল করেছিল এবং বিজেপি ৭৭টি আসনে থমকে গিয়েছিল, সেখানে এবারের ফলাফল সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী চিত্র তুলে ধরছে। গতবার বাম এবং কংগ্রেস কোনো আসন না পেলেও, এবার তাদের প্রাপ্তি বা ভোট কাটাকাটির প্রভাব শাসকদলের জন্য চড়া মূল্য নিয়ে এসেছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছিল, যদিও ফলতা ও আরও কিছু বুথে পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজন পড়েছিল। এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বিজেপির পক্ষ থেকে মতাদর্শগত পরিবর্তন, উন্নয়ন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ডাক দেওয়া হয়েছিল। বামফ্রন্ট সরকারের পতনের ১৫ বছর পর বাংলা আবারও এক বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
মন্তব্য করুন