দিনাজপুর প্রতিনিধি 

এক টুকরো জমি ও বড় স্বপ্নকে পুঁজি করে উন্নত জাতের আম চাষে সাফল্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দিনাজপুরের বিরল উপজেলার রাজারামপুর ইউনিয়নের কৃষক আনছার আলী। আধুনিক প্রযুক্তি, পরিকল্পিত চাষাবাদ এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে গড়ে তোলা তার মডেল আমবাগানের উৎপাদিত আম ইতোমধ্যে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের বাজারেও পৌঁছেছে। এখন তার লক্ষ্য বিশ্ববাজারে দিনাজপুরের আমের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করা।
আনছার আলী জানান, ২০২০ সালে ‘ব্যানানা ম্যাংগো’ আম কিনতে গিয়ে প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা দাম শুনে এই জাতের আম চাষে আগ্রহী হন তিনি। প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি গাছ রোপণ করেন। ফলন ও স্বাদে সন্তুষ্ট হয়ে ২০২২ সালে ৬৫০টি গাছের একটি বাণিজ্যিক আমবাগান গড়ে তোলেন। ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে আম উৎপাদন শুরু করেন তিনি। পরের বছর, ২০২৪ সালে তার বাগানের উৎপাদিত আম বিদেশে রপ্তানি হয়।
বর্তমানে তার বাগানে ব্যানানা ম্যাংগো, কাটিমন, চিয়াংমাই, কিং অব চাকাপাত ও আর-টু-ই-টু-সহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি উন্নত জাতের আমের চাষ হচ্ছে। নিরাপদ ও রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনে তিনি গুড এগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস (GAP) পদ্ধতি অনুসরণ করছেন। একই সঙ্গে রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ ও মানসম্মত আম উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ, কারিগরি পরামর্শ এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি তার সাফল্যের অন্যতম কারণ বলে জানান আনছার আলী। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আম উৎপাদন ও বিদেশে রপ্তানির প্রত্যাশা করছেন তিনি।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক কৃষি ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করে আনছার আলীর মতো উদ্যোক্তারা আম চাষে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছেন। এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হলে দিনাজপুরের আম দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিশ্ববাজারেও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে। এতে কৃষকের আয় বৃদ্ধি ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মন্তব্য করুন