নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের লালপুর উপজেলার চরজাজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটে গেছে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। সহপাঠীর কাছে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার অভিমানে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষেই বিষপান করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বিষপানকারী শিক্ষার্থীর নাম রাকিব উদ্দীন (১১)। সে লালপুর উপজেলার চরজাজিরা গ্রামের বাসিন্দা এবং চরজাজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল থেকেই রাকিবকে কিছুটা মনমরা দেখা যায়। ক্লাসে সে স্বাভাবিকভাবে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশছিল না। একপর্যায়ে শ্রেণি শিক্ষক অমৃতা রিনী হালদারের কাছে ওয়াশরুমে যাওয়ার অনুমতি নিয়ে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে নিজের আসনে বসে। এরপর তার শরীর থেকে তীব্র বিষের গন্ধ পেয়ে পাশের শিক্ষার্থীরা বিষয়টি শিক্ষকদের জানায়।
তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষকরা তাকে উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী, যারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেন, দাবি করেন—রাকিব একই শ্রেণির এক সহপাঠীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে ওই ছাত্রী তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। তাদের ধারণা, সেই অভিমান থেকেই রাকিব বিষপানের মতো চরম সিদ্ধান্ত নেয়।
চরজাজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মরিয়ম সুলতানা বলেন, “ক্লাস চলাকালে রাকিব ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে বাইরে যায়। পরে ফিরে আসার কিছুক্ষণ পর শিক্ষার্থীরা তার শরীর থেকে বিষের গন্ধ পাওয়ার কথা জানায়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।”
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। বিষপানের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এত অল্প বয়সী একজন শিক্ষার্থীর এমন ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অভিভাবক, শিক্ষক এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের মানসিক বিকাশ, পারিবারিক নজরদারি, বিদ্যালয়ে কাউন্সেলিং এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন