কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি 

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দুটি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইনের শিকার হওয়া ৫ জন মানুষ গত ৮ দিন ধরে আন্তর্জাতিক শূন্যরেখা (জিরো পয়েন্ট) এলাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিজিবি ও বিএসএফের কড়াকড়ির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে দিন কাটছে তাদের।
জানা গেছে, গত ১৪ জুন রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ভুন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে ৯ জনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। এ সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধার মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে ৯ জনের মধ্যে ৪ জন সরে গেলেও বর্তমানে গয়টাপাড়া সীমান্তে ২ জন এবং ভুন্দুরচর সীমান্তে ৩ জন অবস্থান করছেন।
পরিচয়হীন ওই ৫ ব্যক্তি বর্তমানে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে পলিথিন টাঙিয়ে জিরো পয়েন্টে আশ্রয় নিয়েছেন। সীমান্তের দুই দেশের বাহিনীর অবস্থানের কারণে তারা কার্যত আটকে পড়েছেন।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জিরো পয়েন্টে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ ও পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। ফলে ওই ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিতকরণ এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত আট দিন ধরে মানুষগুলো সীমান্তে অবস্থান করলেও বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নিচ্ছে না, আবার বিজিবিও বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না। এতে চরম দুর্ভোগের পাশাপাশি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তারা।
বিজিবি জানিয়েছে, উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ও পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন