পরীক্ষামূলক
LIVE TV

ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি মার্কিন সেন্টকমের

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস করেছে।  সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়াকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স এ দাবি করেন।

টিম হকিন্স বলেন, অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন বাহিনী ৮০টির বেশি জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে।

তিনি জানান, ইরান কী আনছে বা বাইরে পাঠানোর চেষ্টা করছে— সেসব বিষয় ঘনিষ্ঠভাবে নজরদারি করছে ওয়াশিংটন।

হকিন্স আরও বলেন, প্রয়োজন হলে যেকোনো জরুরি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিলেছে।

সামরিক লক্ষ্য অর্জনের দাবি

হকিন্স দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান অত্যন্ত কার্যকর হয়েছে এবং সংঘাত শুরুর সময় যেসব সামরিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তার বেশিরভাগই অর্জিত হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস করেছে, বিশেষ করে অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা। এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর ইরানের সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘এখন আর ইরান আগের মতো হুমকি তৈরি করতে সক্ষম নয়। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।’

হকিন্স অভিযোগ করে বলেন, ‘ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।’

ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোকেলক্ষ্যবস্তু

টিম হকিন্স আরও জানান, মার্কিন অভিযানের ফলে ইরান-সমর্থিত আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কাছে অস্ত্র সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।

এদিকে, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা এখনো রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার কথা বললেও সর্বশেষ সামরিক বক্তব্যগুলো থেকে বোঝা যাচ্ছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে এখনো উচ্চ সতর্কতা বজায় রয়েছে। বর্তমান উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সামরিক সংঘাত আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন