স্পোর্টস ডেস্ক 

মাঠের পারফরম্যান্সে দাপট দেখালেও মাঠের বাইরের রাজনীতি আর অভ্যন্তরীণ কোন্দলে চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। স্বায়ত্তশাসিত ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ লিগের ব্যবস্থাপনা বেসরকারি খাতের হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে জটিলতার রেশ কাটতে না কাটতেই সামনে এল নতুন সংকট। কেন্দ্রীয় চুক্তিতে তুষ্ট নন দলটির পাঁচ তারকা ক্রিকেটার। তাঁরা এখনো ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া নতুন চুক্তিতে সই করেননি।
বিগ ব্যাশ লিগকে ঢেলে সাজাতে এবং ব্যবসায়িক লাভের উদ্দেশ্যে এটি ব্যক্তিগত মালিকানায় ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু শুরুতেই বড় ধাক্কা খেয়েছে এই উদ্যোগ। অস্ট্রেলিয়ার ছয়টি প্রাদেশিক ক্রিকেট সংস্থার মধ্যে তিনটি— নিউ সাউথ ওয়েলস, কুইন্সল্যান্ড ও সাউথ অস্ট্রেলিয়া এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রায় ৬০ থেকে ৮০ কোটি ডলারের এই বিনিয়োগ মডেল নাকচ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে বোর্ড।
একটি ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোর্ডের প্রস্তাবিত কেন্দ্রীয় চুক্তির শর্ত ও বেতন নিয়ে মোটেই খুশি নন পাঁচ সিনিয়র খেলোয়াড়। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ খেলোয়াড়দের রাজি করানোর চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক ফল আসেনি।
বোর্ড যেখানে ওয়ানডে ও টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে তিন বছরের জন্য বিশাল অংকের চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে, সেখানে অন্য তারকাদের ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে খেলা কামিন্সকে প্রায় ১২ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু বাকি সিনিয়র ক্রিকেটাররা মনে করছেন, তাদের প্রস্তাবিত বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাজারের তুলনায় অনেক কম।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ বলেছেন,‘আমরা এখন এমন এক অবস্থায় আছি যেখানে পুরো বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল পুরো ক্রিকেটের উন্নয়ন, কিন্তু বর্তমানে আমরা ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে নেই।’
বিগ ব্যাশ লিগের বেসরকারীকরণ ভেস্তে যাওয়ায় স্থানীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে বড় ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে। দেখা গেছে, এই টুর্নামেন্টে বিদেশি খেলোয়াড়দের তুলনায় স্থানীয় খেলোয়াড়রা প্রায় এক থেকে দুই লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার কম পারিশ্রমিক পান। চুক্তিতে এই বৈষম্য দূর না হওয়ায় অনেক তারকা ক্রিকেটার এখন দেশের খেলা বাদ দিয়ে বিদেশের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের দিকে ঝুঁকে পড়ার হুমকি দিচ্ছেন। অধিক আয়ের আশায় তারা জাতীয় দলের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে পারেন বলেও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
সংকট নিরসনে বোর্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রাদেশিক সংস্থাগুলোর দফায় দফায় আলোচনা চলছে। টড গ্রিনবার্গ জানিয়েছেন, তাঁরা পুরো পরিস্থিতির গভীর বিশ্লেষণ করছেন। মার্কেটে সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে কীভাবে খেলোয়াড়দের সন্তুষ্ট রাখা যায় এবং অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের স্বার্থ রক্ষা করা যায়, সেটিই এখন তাদের মূল লক্ষ্য। তবে চুক্তি নিয়ে এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে আগামী আন্তর্জাতিক সিরিজগুলোতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা প্রবল।
সব মিলিয়ে বোর্ডের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তহীনতা এবং খেলোয়াড়দের আর্থিক অসন্তোষ অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন