রাশিয়া-ইরানের কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি, মস্কোতে বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেকের আগে কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি করতে চলেছে রাশিয়া ও ইরান। এই চুক্তি সাক্ষরের জন্য ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইতোমধ্যেই রাশিয়ায় পৌঁছেছেন। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং পেজেশকিয়ানের মধ্যে বৈঠকে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে। রুশ বার্তাসংস্থা তাস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
- মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি
- দক্ষিণ ককেশাসের সাম্প্রতিক উন্নয়ন
- ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি
দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় আরও আলোচনা হবে:
- বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পরিবহন, এবং লজিস্টিকস
- মানবিক সহযোগিতা প্রসারের উপায়
বর্তমানে রাশিয়া এবং ইরান ২০০১ সালে স্বাক্ষরিত ‘সম্পর্কের ভিত্তি এবং সহযোগিতার নীতিমালা’ চুক্তির আওতায় সম্পর্ক বজায় রাখছে। তবে এই চুক্তি ছিল ১০ বছরের জন্য, যা পরবর্তীতে পাঁচ বছরের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হয়। নতুন চুক্তিটি ২০ বছরের জন্য স্বাক্ষরিত হবে, যা দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা আরও সুসংহত করবে।
নতুন এই চুক্তি প্রতিরক্ষা, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই, জ্বালানি, অর্থনীতি, পরিবহন, শিল্প, কৃষি, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, এবং প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করবে। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি শুধু সহযোগিতাই নয়, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে উভয় দেশের প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও জোরদার করবে।
ইরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক রুহুল্লাহ মুদাব্বির বলেছেন, এই চুক্তি দুই দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, চুক্তিতে প্রতিরক্ষা জোট গঠনের কোনও বিধান নেই। এটি কৌশলগত সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করলেও এর মূল লক্ষ্য শান্তি ও পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করা।
বৈঠকের শেষে পুতিন এবং পেজেশকিয়ান একটি যৌথ বিবৃতি দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ক্রেমলিন জানিয়েছে, এই চুক্তি রাশিয়া-ইরানের অভিলাষের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং অন্য কোনও দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে নয়।
মন্তব্য করুন