অ্যান্টার্কটিকায় ‘পিরামিড’! রহস্যের নেপথ্যে কী?
বরফে ঢাকা অ্যান্টার্কটিকার বুকে মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ত্রিভুজাকার ‘পিরামিডের’ ছবি প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে তুমুল চাঞ্চল্য। প্রাচীন সভ্যতার চিহ্ন, নাকি কোনো ভিনগ্রহের কারসাজি? এ রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যস্ত ভূবিজ্ঞানী ও প্রত্নতত্ত্ববিদেরা।
দক্ষিণ মেরুর এই হিমায়িত মহাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বরফে ঢাকা। জনমানবশূন্য এ ভূখণ্ডে কেবলমাত্র পেঙ্গুইন, সিল, তিমি এবং কিছু বিশেষ প্রজাতির মাছের দেখা মেলে।
অভিযাত্রীদের নয়, বরং ২০১৬ সালে কৃত্রিম উপগ্রহের তোলা ছবির বিশ্লেষণেই প্রথম ‘পিরামিড’-সদৃশ চূড়া শনাক্ত করা হয়। এটি অ্যান্টার্কটিকার এলসওয়ার্থ পর্বতমালার অন্তর্গত।
অ্যান্টার্কটিকার সর্বোচ্চ পর্বতমালা এটি, যা প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৪৮ কিলোমিটার চওড়া। ১৯৩৫ সালে মার্কিন অভিযাত্রী লিঙ্কন এলসওয়ার্থ এটি আবিষ্কার করেন।
কিছু ষড়যন্ত্র তত্ত্ববিদের মতে, এটি প্রাচীন সভ্যতার অবশিষ্টাংশ বা কোনো গোপন সংগঠনের আস্তানা। তবে ভূবিজ্ঞানীরা একে প্রকৃতির খেলা বলেই ব্যাখ্যা করেছেন।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞানী এরিক রিগনোট বলেন, ‘এটি কোনো অতিপ্রাকৃত ঘটনা নয়, বরং বরফ ও হিমবাহের স্বাভাবিক ক্ষয়ের ফলে গঠিত।’ ভূবিজ্ঞানীদের মতে, একাধিক হিমবাহের ঘর্ষণে এ ধরনের পিরামিডাকৃতি চূড়া গঠিত হয়।
এমন আকৃতির পর্বত শুধুমাত্র অ্যান্টার্কটিকাতেই নয়, সুইজারল্যান্ড-ইতালি সীমান্তের ম্যাটারহর্ন শৃঙ্গও একই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় গঠিত হয়েছে।
প্রত্নতাত্ত্বিকরা এখনো পর্যন্ত মিশরীয় পিরামিডের মতো কোনো নির্মিত কাঠামো অ্যান্টার্কটিকায় খুঁজে পাননি। এ অঞ্চলের ‘পিরামিড’ নিছকই প্রাকৃতিক গঠনের ফল। তাই রহস্য নয়, এটি ভূ-প্রকৃতির বিস্ময় বলাই শ্রেয়।
মন্তব্য করুন