আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

চলমান উত্তেজনা হ্রাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি শান্তি চুক্তির কাছাকাছি আসছে, এমন প্রত্যাশায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার (২৫ মে) সকাল ৮টা ২২ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময়) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৪৪ ডলার বা ৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ১০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। আর জুন মাসের ডেলিভারির জন্য আমেরিকান বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সেস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৩৬ ডলার বা ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৯২ দশমিক ২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। উভয় বেঞ্চমার্কের এই মূল্য গত ৭ মে-এর পর থেকে সর্বনিম্ন।
গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি শান্তি চুক্তির সমঝোতায় পৌঁছেছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। যদিও রোববার তিনি তার প্রতিনিধিদের কোনো চুক্তিতে তাড়াহুড়ো না করার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা সাময়িক হ্রাস পাওয়ায় তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা কমেছে, যার ফলে বাজার নিম্নমুখী হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলো মেরামত করার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরতে কয়েক মাস সময় লাগবে।
বাজার বিশ্লেষক সংস্থা আইএনজির কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি বিভাগের প্রধান ওয়ারেন প্যাটারস রয়টার্সকে বলেন, ‘এর আগেও একাধিকবার ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তির আশা দেখা গেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আলোচনা ভেস্তে গেছে। তাই এবার বাজারের বিক্রেতারা অনেক সতর্ক অবস্থায় আছেন।’
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা শুরু হলে এর প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত তেল-গ্যাস পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান। বিশ্বের মোট তেল-গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশই এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলছে, তবে এখনো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। এতে বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে এবং তেলের দামও অনেক বেড়ে যায়।
মন্তব্য করুন