ফের গাজা দখলের ঘোষণা, কী করবেন তাও জানালেন ট্রাম্প
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিতর্কিত পরিকল্পনার কথা পুনরায় উল্লেখ করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, গাজা উপত্যকার মালিকানা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আলজাজিরার খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) নিউ অরলিন্সে যাওয়ার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ কথা বলেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, গাজাকে একটি ‘বড় রিয়েল এস্টেট সাইট’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোকেও এর পুনর্নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।
নিউ অরলিন্সের সুপার বোলে যোগদানের পথে তিনি বলেন,
“গাজা পুনর্নির্মাণের জন্য আমাদের পৃষ্ঠপোষকতায় মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশকেও দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, হামাস ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত গাজার মালিকানা নিশ্চিত করব।”
ট্রাম্প আরও বলেন, গাজার জনগণ যদি নিরাপদ বিকল্প পায়, তবে তারা সেখানে ফিরে যেতে চাইবে না। তিনি দাবি করেন,
“যদি তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করা যায়, তাহলে গাজায় ফিরে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।”
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছে গাজার ক্ষমতাসীন হামাস। সংগঠনটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ইজ্জত আল-রিশেক এক বিবৃতিতে বলেছেন,
“গাজা এমন কোনো সম্পত্তি নয় যা কেনা-বেচা করা যায়। এটি ফিলিস্তিনি ভূমির অবিচ্ছেদ্য অংশ।”
তিনি আরও বলেন,
“একজন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীর মানসিকতা নিয়ে ফিলিস্তিনি সমস্যা মোকাবিলা করা ব্যর্থতার একটি রেসিপি। ফিলিস্তিনি জনগণ তাদের বাস্তুচ্যুতি ও নির্বাসনের যেকোনো পরিকল্পনা ব্যর্থ করবে।”
এর আগে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে গাজা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা দেন,
“যুক্তরাষ্ট্র গাজা দখল করবে এবং এটি পুনর্গঠন করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে।”
তিনি আরও বলেন, ধ্বংসস্তূপে পরিণত গাজা পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটানো হবে, যা বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থান ও আবাসন সৃষ্টি করবে।
তবে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য বিশ্বজুড়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফিলিস্তিন সংকটের সমাধানে এমন দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবসম্মত নয় এবং এটি দীর্ঘমেয়াদে আরও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
মন্তব্য করুন