নীলফামারী প্রতিনিধি 

খামারের পাশাপাশি গরুর পুষ্টিকর খাদ্য ‘সাইলেজ’ তৈরি করে সফলতার মুখ দেখেছেন নীলফামারীর তরুণ উদ্যোক্তা সাইফুল আজম সৈকত। নিজের খামারের চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটির নাম দিয়েছেন “আম্মার লাইভস্টক এন্ড এগ্রো” একই সঙ্গে তার এই উদ্যোগে সৃষ্টি হয়েছে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান।
জানা যায়, আধুনিক পদ্ধতিতে ভুট্টা, নেপিয়ার ঘাসসহ বিভিন্ন ধরনের সবুজ ঘাস সংরক্ষণ করে সাইলেজ তৈরি করছেন সৈকত। এতে সারা বছর গরুর জন্য পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যখন ঘাসের সংকট দেখা দেয়, তখন এই সাইলেজ খামারিদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে ওঠে। শুরুতে ছোট পরিসরে নিজের খামারের চাহিদা মেটাতে সাইলেজ তৈরি করলেও বর্তমানে তা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করছেন তিনি। দেশের বিভিন্ন খামারি তার কাছ থেকে সাইলেজ কিনে নিচ্ছেন।
প্রতিদিন সাইলেজ তৈরি, প্যাকেটজাতকরণ, পরিবহন ও বিপণনের কাজে কাজ করছেন ৩০জন শ্রমিক। ফলে এলাকায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
অত্র প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আমাদের সাইলেজ গুলো আর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে তা খামারদের কাছে বিক্রি করা হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এর চাহিদা বেশি তাকে। আমরা এ জন্য এখন থেকে মজুদ করে রাখছি।
ওমর ফারুক নামে একজন শ্রমিক বলেন, আমি এখানে প্রায় ৯ বছর থেকে কাজ করছি। পড়ালেখার পাশাপাশি এখানে কাজ করি। এখানে প্রায় ৫০ জন লোক কাজ করে। সাইলেজ করার আগে আমাদের মাঠ থেকে ভুট্টাগাছ নিয়ে এসে কাটিং করে ২১দিন রাখতে হয়, এরপর গরুর খাদ্য খাওয়ার উপযোগী হয়। বাজারের খাদ্যের থেকে সাইলেজে সাশ্রীয় হয়।
সৈকত বলেন, “বর্ষা মৌসুমে গরুর খাবারের সংকট থাকে। তাই ভুট্টা ও ঘাস সংরক্ষণ করে সাইলেজ তৈরি করি। এতে গরুর স্বাস্থ্য ভালো থাকে, দুধ ও মাংস উৎপাদন বাড়ে। আমাদের সাইলেজ দেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলায় খামারিদের প্রেরণ করে থাকি। বর্তমানে খামারে ৭০টি গরু রয়েছে। এবার কুরবানীতে বিক্রির জন্য ৫০টির মতো গরু রেডি করছি। আশা করছি গরুতে ভালো দাম পাবো। এছাড়াও আমার “আম্মার লাইভস্টক এন্ড এগ্রো” প্রতিষ্ঠান থেকে আর্গানিক সাইলেজ বিক্রি করছি। সেখানে আমার এই উদ্যোগে অনেক মানুষ কাজের সুযোগ পেয়েছেন।”
স্থানীয় মমিনুর ইসলাম নামে খামারিরা জানান, সৈকতের তৈরি সাইলেজ ব্যবহার করে তারা উপকৃত হচ্ছেন। এতে গরুর খাবারের খরচ কমছে এবং সহজেই পুষ্টিকর খাদ্য পাওয়া যাচ্ছে। দাম হিসেবে বাজারের গরুর খাদ্যের থেকে অনেক কম।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা রাশিদুল ইসলাম জানান, জেলায় অনেক পশু পালনকারি বলেন বাজারে যেসব গরুর খাবার পাওয়া যায় তা দামে পশুপালনে অনেক খরচ হয় । এই কারনে আমরা জেলায় উদ্যক্তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগীতা করছি। তারা সাইলেজ তৈরি করে পশুর খাদ্যের দাম কমিয়ে আনা সম্ভোব। এজন্য আমরা তাদের পাশে রয়েছি।
তিনি আরও বলেন, সাইলেজ গরুর জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর ও কার্যকর খাদ্য। এটি খামারিদের জন্য লাভজনক উদ্যোগ হতে পারে। তরুণদের এ ধরনের উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা। সৈকতের এমন উদ্যোগ এলাকায় নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। তার স্বপ্ন, ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে সাইলেজ উৎপাদন করে জেলার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
মন্তব্য করুন