গাজার ‘লাইফ লাইন’ রাফাহ সীমান্ত খুলে দেওয়া হলো
প্রায় ৯ মাস পর অবরুদ্ধ গাজার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে করে অসুস্থ ও আহত ফিলিস্তিনি রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য মিসরে যাওয়া সহজ হবে। মিসরীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ফিলিস্তিনি রেডক্রস অ্যাম্বুলেন্স ক্রসিং গেটের দিকে এগিয়ে আসছে। কয়েকজন শিশুকে স্ট্রেচারে করে মিসরের অ্যাম্বুলেন্সে স্থানান্তর করতেও দেখা গেছে। (সূত্র: আলজাজিরা)
রাফাহ ক্রসিং পুনরায় চালু হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে আরও জোরদার করবে। ইসরাইল, গাজার সর্বশেষ নারী বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার পর, ক্রসিংটি পুনরায় চালু করতে সম্মত হয়।
এর আগে ১৯ জানুয়ারি ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরাইলে আকস্মিক হামলা চালানোর পর গাজায় যুদ্ধ শুরু করে ইসরাইল। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৪৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
রাফাহ ক্রসিং গাজা ও মিসরের মধ্যে একমাত্র সীমান্ত পারাপার পয়েন্ট, যা দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ ছিল।
শনিবার সকালে হামাস তিনজন ইসরাইলি বন্দিকে মুক্তি দেয়। এরই ধারাবাহিকতায়, ইসরাইলি কারাগারে বন্দি থাকা ১৮০ জনের বেশি ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হাসপাতাল পরিচালক মোহাম্মদ জাকৌত জানিয়েছেন, ৬,০০০-এর বেশি রোগীকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে ১২,০০০-এরও বেশি রোগীর জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে।
যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৩৩ জন জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল। সেই শর্ত অনুযায়ী, কয়েক দফায় জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার মুক্তি পাওয়া জিম্মিদের মধ্যে ছিলেন ইয়ারডেন বাইবাস ও ফরাসি-ইসরাইলি ওফের কালডেরন, যাদের গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসে রেডক্রসের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাদের ইসরাইলে পাঠানো হয়। কয়েক ঘণ্টা পর, গাজা সিটির সমুদ্রবন্দরে মার্কিন-ইসরাইলি কিথ সিগেলকেও মুক্তি দেওয়া হয়।
ইয়ারডেন বাইবাসের ৯ মাস বয়সী ছেলে কাফির ও চার বছর বয়সী ছেলে অ্যারিয়েল ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সময় অপহৃত হয়েছিল। তবে ২০২৩ সালের নভেম্বরে হামাস দাবি করে, ইসরাইলি বিমান হামলায় তাদের দুই শিশু ও মা শিরি নিহত হয়েছেন। এরপর থেকে তাদের বিষয়ে আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
শনিবার মুক্তি পাওয়া জিম্মিদের বিনিময়ে ১৮২ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে বলে হামাস জানিয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরাইলে হামলা চালায়, যেখানে ১,২০০ জন নিহত ও প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয় বলে ইসরাইল দাবি করে। এর জবাবে ইসরাইল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে, যা এখন পর্যন্ত চলমান। প্রায় ১৫ মাস ধরে চলা হামলায় ৪৭,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, এমনটাই জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
মন্তব্য করুন