পরীক্ষামূলক
LIVE TV

রুপির পতন, কেন ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার মান কমছে?

বিগত কয়েক বছরে ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির ক্রমাগত পতন চোখে পড়ার মতো। বর্তমানে ১ ডলারের মূল্য ৮৬.৫৪ রুপিতে পৌঁছেছে, যা কিছুদিন আগে ৮৭ রুপিতেও পৌঁছে গিয়েছিল। ২০১৪ সালে যেখানে ১ ডলারের দাম ছিল ৬১ রুপি, সেখানে গত ১৫ বছরে রুপির ক্রমাগত অবমূল্যায়ন ভারতের অর্থনৈতিক শক্তি নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকেই ভারতীয় মুদ্রার উত্থান-পতনের পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা।

১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার সময় ১ মার্কিন ডলারের মূল্য ১ রুপির সমান ছিল। কিন্তু উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য বিদেশি ঋণের কারণে রুপির অবমূল্যায়ন শুরু হয়। কিছু গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল:

  • ১৯৬৬: চীন-ভারত ও ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের ফলে রুপির মান ৪.৭৯ থেকে কমে ৭.৫৭ হয়।
  • ১৯৭৫: মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির মান দাঁড়ায় ৮.৩৯।
  • ১৯৯১: আর্থিক সংকটে পড়ে ভারত, যার ফলে রুপির মূল্য ১৭.৯০-তে নেমে আসে।
  • ১৯৯৩: মুদ্রার মান বাজারের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়, যার ফলে রুপির মান দাঁড়ায় ৩১.৩৭।
  • ২০০০-২০১০: এই সময় রুপির মান ৪০ থেকে ৫০-এর মধ্যে ওঠানামা করেছিল।

বর্তমানে রুপির পতনের প্রধান কারণসমূহ:

১. বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার:

  • বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজার থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন, যার ফলে রুপির ওপর নেতিবাচক চাপ পড়ছে।
  1. ডলারের শক্তিশালী অবস্থান:
    • আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে রুপির মান আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে।
  2. রপ্তানি বৃদ্ধির অভাব:
    • ভারতের রপ্তানি পর্যাপ্ত হারে না বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ কমে যাচ্ছে, যা রুপির দুর্বলতার অন্যতম কারণ।
  3. মুদ্রাস্ফীতি:
    • ভারতের তুলনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রিত, ফলে রুপির মান নিম্নমুখী।
  4. জ্বালানি ও কাঁচামাল আমদানি:
    • ভারত উচ্চমূল্যে তেল ও অন্যান্য কাঁচামাল আমদানি করায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমছে।

মুদ্রার বিনিময় হার চাহিদা ও যোগানের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। যখন কোনো দেশের মুদ্রার চাহিদা কমে যায়, তখন তার মান হ্রাস পায়। রিজার্ভ ব্যাংকের নীতিমালা, বিদেশি বিনিয়োগ এবং আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য এই বিনিময় হারের ওপর প্রভাব ফেলে।

বর্তমানে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাস পাচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসে যেখানে রিজার্ভ ছিল ৭০০ বিলিয়ন ডলার, তা কমে ৬৪০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রিজার্ভ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ না থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত।

রুপির ক্রমাগত পতন ভারতের অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। রপ্তানি বৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব। তবে, ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক নীতিতে পরিবর্তন না আনলে রুপির মান আরও কমতে পারে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন