স্পোর্টস ডেস্ক 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর আগে ব্রাজিল জাতীয় দলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কথা উঠেছে সেই ঐতিহাসিক ১০ নম্বর জার্সি নিয়ে, যা একসময় পেলের পায়ে বিশ্বজয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। দীর্ঘদিন ধরে এই জার্সির মুখ হয়ে থাকা নেইমার জুনিয়রের জায়গায় কি ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে দেখা যাবে? এই গুঞ্জন ঘিরে এখন তুমুল বিতর্ক চলছে সেলেসাও শিবিরে।
পেলে এই নম্বরকে বিশ্ব ফুটবলের আইকনে পরিণত করেন। তারপর জিকো, রিভালদো, রোনালদিনিয়ো, কাকা একেকজন কিংবদন্তি এই জার্সিতে নিজেদের স্বপ্নের গল্প লিখেছেন। ২০১৩ সাল থেকে প্রায় অবিচ্ছিন্নভাবে এই জার্সি পরে আসছেন নেইমার। শুধু জনপ্রিয়তা নয়, এই জার্সির সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসম্ভব চাপ, প্রত্যাশা আর কিংবদন্তিদের সঙ্গে তুলনার এক অদ্ভুত যাত্রা। তিনি হয়ে উঠেছিলেন ব্রাজিল ফুটবলের নতুন মুখ।
সাম্প্রতিক বছরে চোটের বেড়াজাল আর সমালোচনা তাঁকে ঘিরে রেখেছে। তবু দলের ভেতরে তাঁর প্রভাব এখনো অটুট। কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মতামত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি রাফিনিয়া নেইমারের নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতার প্রশংসা করেছেন। দলের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক ও সিনিয়রিটির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হলে নেইমারই সম্ভবত ১০ নম্বর ধরে রাখবেন। সেক্ষেত্রে ভিনিসিয়ুস ফিরে যেতে পারেন তাঁর রিয়াল মাদ্রিদের প্রিয় ৭ নম্বরে।
অন্যদিকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এখন ব্রাজিলের ভবিষ্যতের উজ্জ্বলতম তারকা। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গত কয়েক মৌসুমে তিনি নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় হিসেবে প্রমাণ করেছেন। গতি, আত্মবিশ্বাস আর বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা তাঁকে নতুন প্রজন্মের কেন্দ্রবিন্দু বানিয়েছে।
২০২৩ সালে নেইমার চোটে ছিলেন, তখন ভিনি ১০ নম্বর পরে খেলেছিলেন। তরুণ সমর্থকদের কাছে সেই জার্সি এখন ভিনির সঙ্গেই যুক্ত হয়ে উঠছে। অনেকে মনে করেন, সময় এসেছে নতুন প্রজন্মের হাতে এই ঐতিহ্য তুলে দেওয়ার।
তবে নেইমারের পক্ষেও রয়েছে বড় এক রেকর্ডের সম্ভাবনা। যদি তিনি আরেকটি বিশ্বকাপে ১০ নম্বর জার্সি পরেন, তাহলে চারটি ভিন্ন বিশ্বকাপে এই জার্সি পরা একমাত্র ব্রাজিলিয়ান হয়ে যাবেন তিনি, এমনকি পেলেকেও ছাড়িয়ে।
মজার ব্যাপার হলো, পেলের ১০ নম্বরও শুরু হয়েছিল একেবারে কাকতালীয়ভাবে। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে ফিফা এলোমেলোভাবে জার্সি নম্বর বরাদ্দ করেছিল। সেই নম্বরই পরে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত প্রতীকে পরিণত হয়।
মন্তব্য করুন