আরসিটিভি ডেস্ক 

পবিত্র হজ্জব্রত পালনের উদ্দেশ্যে বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি। দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে তিনি এবার পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনায় অবস্থান করছেন এবং সেখানেই তার পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন করার কথা রয়েছে।
গত বুধবার (২০ মে) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন। হজের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা ও ধর্মীয় বিধিবিধান সম্পন্ন করে আগামী ১ জুন তার দেশে ফেরার করার কথা রয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহার এই আনন্দঘন ও ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর মুহূর্ত উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে এক বিশেষ বিবৃতি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বিবৃতিতে তিনি মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, হযরত ইব্রাহিম (আঃ), তার স্ত্রী হযরত হাজেরা এবং প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-এর চরম আত্মত্যাগ ও মহান স্মৃতিবিজড়িত পবিত্র ঈদুল আযহা আমাদের দ্বারে সমাগত। এই উৎসব কেবল পশু কুরবানির আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং তা আমাদের ভেতরে ত্যাগ, ধৈর্য ও মহান আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের চেতনা জাগ্রত করে।
বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান সমাজ বিনির্মাণে কুরবানির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ, শোষণমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কুরবানির শিক্ষা আমাদের আজীবন অনুপ্রেরণা জোগায়। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি স্তরে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করতে হবে। তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে সতর্কবার্তা দেন এবং বলেন, দেশ থেকে স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শক্তি অপসারিত হলেও দেশ এখনো পুরোপুরি চক্রান্তমুক্ত হয়নি। পরাজিত শক্তিরা দেশের ভেতরে আত্মগোপনে থেকে এবং দেশের বাইরে অবস্থান করে নানাভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
দেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তি বিনষ্টের যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দিতে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ন্যায়ের পক্ষে আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। ইসলামের সুমহান আদর্শের আলোকে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। পরিশেষে, তিনি মহান আল্লাহর দরবারে দেশবাসীর সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ জীবনের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন।
এদিকে, ঈদুল আজহা উদযাপনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ কে কোথায় অবস্থান করবেন, তার একটি তালিকা দলীয় সূত্রে প্রকাশ করা হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের অনেকেই রাজধানী ঢাকায় ঈদ উদযাপন করবেন, আবার অনেকে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করবেন।
ঢাকায় ঈদ উদযাপন করবেন দলের নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের এমপি এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। কেন্দ্রীয় এই শীর্ষ নেতারা ঢাকার কেন্দ্রীয় জামাতগুলোতে অংশ নেবেন এবং ঈদ পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
অন্যদিকে, ঢাকার বাইরে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা ও গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপন করবেন দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ। নায়েবে আমীর মাওলানা শামসুল ইসলাম চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার নিজ গ্রামে, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনার খানজাহান আলী থানার নিজ গ্রামে এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার নিজ এলাকার ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করবেন।
এছাড়া সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার নওকৈড় নিজ গ্রামে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ভাঙ্গাপুষ্কুরুনী গ্রামে, এডভোকেট মোয়াজ্জম হোসাইন হেলাল বরিশালের নিজ গ্রামে এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার-মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সিলেটের নিজ গ্রামে ঈদ উদযাপন করবেন। সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মো. শাহজাহান পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন করবেন চট্টগ্রাম মহানগরীতে। নেতারা নিজ নিজ এলাকায় ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন বলে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন